ভোট মিটতেই আমজনতার পকেটে টান, কলকাতায় ১০৮ টাকা পার পেট্রল!

ভোটের মরশুম শেষ হতেই দেশজুড়ে আশঙ্কাই সত্যি হলো। দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেল পেট্রল ও ডিজেলের দাম। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, দেশজুড়ে লিটার প্রতি ৩ টাকা করে দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলের। এই সিদ্ধান্তের জেরে কলকাতায় জ্বালানির দাম এখন আকাশছোঁয়া, যা সাধারণ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও চওড়া করেছে।
নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, কলকাতায় লিটার প্রতি পেট্রলের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৮.৭৪ টাকা। পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ডিজেলও, তিলোত্তমায় এক লিটার ডিজেলের দাম এখন ৯৫.১৩ টাকা। কর কাঠামোর পার্থক্যের কারণে দিল্লির তুলনায় কলকাতায় এই দাম অনেকটাই বেশি। মুম্বই ও চেন্নাইয়ের মতো অন্যান্য মহানগরীগুলোতেও ছবিটা একই রকম। দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর জ্বালানি তেলের মূল্যে এমন বড়সড় রদবদল ঘটল।
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা ও দাম বৃদ্ধির কারণ
দীর্ঘ ১১ সপ্তাহ জ্বালানির দাম স্থির থাকার পর তেল বিপণন সংস্থাগুলি (OMCs) এই মূল্যবৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়েছে। এর নেপথ্যে মূল কারণ হলো পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও ভূরাজনৈতিক সংঘাত। যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ভারত যে তেল আমদানি করে, গত ফেব্রুয়ারিতে তার দাম ছিল ব্যারেল প্রতি ৬৯ ডলার, যা বর্তমানে প্রায় ১১৩ থেকে ১১৪ ডলারে পৌঁছেছে। আমদানি খরচ আকাশছোঁয়া হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি আর লোকসান সামলাতে না পেরেই দাম বাড়িয়েছে।
বাজার দর ও পরিবহণে সম্ভাব্য প্রভাব
ডিজেলের দাম ৯৫ টাকা পার করে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পরিবহণ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পণ্যবাহী গাড়ির ভাড়া বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজারে। ফলে সবজি, মাছ, মাংস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সব সামগ্রীর দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে। ২০২২ সালের এপ্রিলের পর থেকে তেলের দাম প্রায় অপরিবর্তিত ছিল, মাঝে ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে সামান্য ২ টাকা কমানো হলেও বিশ্ব পরিস্থিতির চাপে সেই স্বস্তি স্থায়ী হলো না। এই মূল্যবৃদ্ধি আগামী দিনে বাজারদরে বড়সড় মুদ্রাস্ফীতি ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।