রেফার-রোগ ও রোগীদের ভোগান্তি রুখতে মেগা সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর, বেসরকারি হাসপাতালেও মিলবে ফ্রি বেড

সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে শয্যার (Bed) অভাবে রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরে বেড়ানো এবং ‘রেফার’ হওয়ার চেনা ভোগান্তি বন্ধ করতে এবার নজিরবিহীন ও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো সরকারি মেডিক্যাল কলেজে শয্যা না পাওয়া গেলে রোগীকে ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে রাজ্যের কেন্দ্রীয় সরকারি হাসপাতাল এবং বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের শয্যাও ব্যবহার করবে সরকার।
বেসরকারি হাসপাতালের ১৫% শয্যা সরকারের
বৈঠক সূত্রে খবর, বেসরকারি হাসপাতালগুলির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সুনিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও প্রশাসনিক দিক স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। বৈঠকে জানানো হয়:
- রাজ্যের বেশিরভাগ বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালগুলি তৈরির জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সস্তায় জমি দেওয়া হয়েছিল।
- চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, এই সমস্ত বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলির মোট শয্যার ১৫ শতাংশ শয্যা রাজ্য সরকারের জন্য সংরক্ষিত।
- এখন থেকে সরকারি হাসপাতালে শয্যা না থাকলে রোগীদের সরাসরি এই সংরক্ষিত ১৫ শতাংশ বেডে স্থানান্তরিত করা হবে, যার চিকিৎসার খরচ বহন করবে সরকার।
রেফার করলেই কড়া ব্যবস্থা
দিনের পর দিন ধরে আশঙ্কাজনক রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রেফার করার যে ‘রেফার-কালচার’ বা অপসংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, উপযুক্ত কারণ ও সেন্ট্রাল রেফারেল সিস্টেমের অনুমতি ছাড়া কোনো রোগীকে রেফার করা যাবে না। কোনো হাসপাতাল যদি পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও রোগীকে রেফার করে, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় হাসপাতালগুলিও
শুধু বেসরকারি নয়, রাজ্যে অবস্থিত বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলির শয্যাকেও এই জরুরি ব্যবস্থার আওতাভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ব্যবহার করে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই সময়োচিত ও কড়া নির্দেশের পর স্বাস্থ্য মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপ যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বাংলার স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ‘রেফার-আতঙ্ক’ এবং শয্যার অভাব জনিত ভোগান্তি থেকে সাধারণ মানুষ বড়সড় রেহাই পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।