দালাল রাজ খতম করতে অ্যাম্বুলেন্সে বসবে জিপিএস, এসএসকেএমে বেড বাড়ানোর কড়া নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

সরকারি হাসপাতালগুলিতে দীর্ঘদিন ধরে শিকড় গেড়ে বসা দালাল চক্র উপড়ে ফেলতে এবং রোগীদের হয়রানি বন্ধ করতে এবার সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্বাস্থ্য দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক ও সুপারদের নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি বৈঠকে একগুচ্ছ কড়া ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নির্দেশিকা জারি করেছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বার্তা—সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে কোনো রকম আপস বা দালালদের দাপাদাপি বরদাস্ত করা হবে না।
অ্যাম্বুলেন্সে জিপিএস ও দালাল চক্রে কোপ
হাসপাতাল চত্বরে অনেক সময়ই বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক ও দালালদের যোগসাজশে রোগীদের জোর করে বেসরকারি নার্সিংহোমে স্থানান্তরিত করার অভিযোগ ওঠে। এই চক্র ভাঙতে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন:
- রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে বাধ্যতামূলকভাবে জিপিএস (GPS) ট্র্যাকিং সিস্টেম লাগাতে হবে। এর ফলে কোন অ্যাম্বুলেন্স রোগীকে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে, তা প্রশাসন সহজেই ট্র্যাক করতে পারবে।
- হাসপাতাল চত্বরে বহিরাগত বা দালালদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং নজরদারির জন্য সিসিটিভি-র সংখ্যা বাড়াতে হবে।
রিয়েল টাইম বেড ভ্যাকেন্সি ও সেন্ট্রাল মনিটরিং
রেফার রোগ পুরোপুরি নির্মূল করতে মুখ্যমন্ত্রী ‘রিয়েল টাইম বেড ভ্যাকেন্সি’ (Real-Time Bed Vacancy) ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়েছেন। এখন থেকে একটি কেন্দ্রীয় অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে নজর রাখা হবে কোন হাসপাতালে কয়টি শয্যা খালি আছে। যদি কোনো হাসপাতালে শয্যা না থাকে, তবে রোগীকে মাঝরাস্তায় ফেলে না রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে অন্য হাসপাতালে শয্যার বন্দোবস্ত করে দিতে হবে। গোটা প্রক্রিয়াটি নবান্ন ও স্বাস্থ্য ভবন থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ (Central Monitoring) করা হবে।
পিজি হাসপাতালে শয্যা বৃদ্ধির নির্দেশ
রাজ্যের অন্যতম প্রধান রেফারেল হাসপাতাল এসএসকেএম (SSKM) বা পিজি হাসপাতালের ওপর রোগীর চাপ কমাতে এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দিতে বড় নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অবিলম্বে এসএসকেএম-এর সমস্ত বিভাগে শয্যা সংখ্যা (Bed Capacity) বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন। জরুরি বিভাগ থেকে শুরু করে সাধারণ ওয়ার্ড—সব জায়গাতেই যাতে শয্যার অভাবে কোনো রোগীকে ফিরে যেতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া ও আধুনিক দাওয়াই সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে দালাল রাজ চিরতরে খতম করবে বলেই আশা করছে ভুক্তভোগী আমজনতা।