ফরাক্কা বাঁধ বাংলাদেশের জন্য মরণফাঁদ, অভিন্ন নদী নিয়ে দিল্লিকে তীব্র তোপ মির্জা ফখরুলের

আন্তর্জাতিক আইনকানুন ও কনভেনশনের তোয়াক্কা না করে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবাহিত ৫৪টি অভিন্ন নদীতে একের পর এক বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সরকারের স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রী তথা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ঐতিহাসিক ‘ফরাক্কা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি ভারতের ফরাক্কা বাঁধকে বাংলাদেশের জন্য ‘মরণফাঁদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের শীর্ষস্তরের এই মন্ত্রীর এমন কড়া অবস্থান ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করছেন কূটনীতি বিশেষজ্ঞরা।
অস্তিত্বের সংকট ও পরিবেশগত বিপর্যয়
বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, অভিন্ন নদীগুলোতে ভারতের একতরফা বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিকভাবে প্রবাহিত জলের ধারা মারাত্মকভাবে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ভারত একের পর এক বাঁধের মাধ্যমে জল প্রত্যাহার করে নেওয়ায় বাংলাদেশের অস্তিত্ব এখন চরম সংকটের মুখে। আন্তর্জাতিক নদী আইনের তোয়াক্কা না করার এই প্রবণতা বাংলাদেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
কৃষি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য আঘাত
নদীর স্বাভাবিক জলপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে দেশের কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, উজানে জল আটকে রাখার ফলে বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের আবাদি জমি দ্রুত ঊষর প্রান্তরে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে দেশের সেচ ব্যবস্থা, মৎস্য সম্পদ এবং ভূগর্ভস্থ জলের স্তরে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে, যা সামগ্রিক জাতীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফরাক্কা লং মার্চের স্মৃতি স্মরণ করে এই সংকট মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বও প্রকাশ পায় এই দিবসের প্রেক্ষাপটে।