পৌরস্তরে ক্ষমতা হাতবদলের নতুন সমীকরণ, দল না বদলে বিজেপির সুরেই তাল মেলাচ্ছে তৃণমূলের পুরপ্রধানরা!

রাজ্যের পৌরসভাগুলোতে দলবদল না করিয়েই প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে শুরু করেছে বিজেপি। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর একাধিক পুরসভায় তৃণমূলের পুরপ্রধান বা কাউন্সিলররা বিজেপিতে যোগ না দিলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে গেরুয়া শিবিরের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে পৌরস্তরের রাজনীতিতে এক অদ্ভুত দোলাচল তৈরি হয়েছে, যেখানে প্রশাসনিক রাশ পরোক্ষভাবে চলে যাচ্ছে বিরোধীদের হাতে।
বিধায়কদের কড়া নজরদারি ও তৎপরতা
সম্প্রতি একাধিক পৌর এলাকায় দেখা গেছে, বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়করা পুর পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছেন এবং তৃণমূলের জয়ী কাউন্সিলররা তা মেনে নিচ্ছেন। বরাহনগরের বিধায়ক সজল ঘোষ নিজের এলাকার ডাস্টবিনে আবর্জনার স্তূপ দেখে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সাফাইয়ের নির্দেশ দেন, যা মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর করা হয়। একইভাবে, দক্ষিণ দমদম পুরসভার চেয়ারপার্সন কস্তুরী চৌধুরীর সাথে বৈঠকে বসেন বিজেপি বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী, শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। ভোটের ফলাফলের পর পুরসভায় যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া কস্তুরী চৌধুরীকে বিজেপি বিধায়কেরাই উদ্যোগী হয়ে পুরসভায় ফিরিয়ে আনেন এবং এখন সমন্বয় রেখেই কাজ চলছে। একই ছবি দেখা গেছে বনগাঁতেও, যেখানে হাবড়ার নতুন বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডল পুরপ্রধানকে পরিষেবা মসৃণ রাখার আশ্বাস ও নির্দেশ দিয়ে এসেছেন।
কারণ ও প্রশাসনিক প্রভাব
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী ফলাফলের পর তৃণমূলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশের মধ্যে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক নিরাপত্তাহীনতা এবং একপ্রকার ‘অভিভাবকহীন’ পরিস্থিতিই এই নতুন সমীকরণের মূল কারণ। ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তনের পর স্থানীয় স্তরে ক্ষোভ এড়াতে এবং নিজেদের পদ টিকিয়ে রাখতে তৃণমূল নেতারা বিজেপির এই সক্রিয়তাকে ইতিবাচক হিসেবেই গ্রহণ করছেন। এর ফলে পৌর প্রশাসনে এক নজিরবিহীন দোলাচল তৈরি হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে পুর পরিষেবা সচল ও মসৃণ মনে হলেও, পরোক্ষ এই নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তৃণমূলের নিজস্ব কর্তৃত্ব অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ছে, যা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।