‘এক ইঞ্চি’ জমিতেও খনন নয়, বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের আগে কঠোর নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিম কোর্টের

‘এক ইঞ্চি’ জমিতেও খনন নয়, বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের আগে কঠোর নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিম কোর্টের

পরিবেশগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল অরাবলী পর্বতমালা রক্ষার্থে এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন রায় দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আদালত-নিযুক্ত বিশেষ কমিটির রিপোর্ট সম্পূর্ণ বিশ্লেষণ ও খতিয়ান না করা পর্যন্ত অরাবলী পাহাড়ের এক ইঞ্চি জমিতেও নতুন করে কোনো খনিজ খনন বা মাইনিংয়ের কাজ চালানো যাবে না। শনিবার এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া নির্দেশের পর এক ধাক্কায় বন্ধ হয়ে গেল রাজস্থান ও হরিয়ানার বিস্তীর্ণ অঞ্চলের খনি সিল করার প্রক্রিয়া।

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চের কড়া পর্যবেক্ষণ

দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে অরাবলীর বেআইনি খননকার্য ও পরিবেশ ধ্বংসের মামলার শুনানি চলছিল। শুনানির সময় পাহাড় ধ্বংসের এই ভয়াবহ চিত্রে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে বিচারপতিদের বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়:

“আদালত-নিযুক্ত বিশেষজ্ঞ কমিটি পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এই অরাবলী পাহাড়শ্রেণির একটি নতুন এবং বৈজ্ঞানিক সংজ্ঞা (Definition) জমা না দেওয়া পর্যন্ত এবং আদালত তা খতিয়ে না দেখা পর্যন্ত সেখানে কোনো ধরণের খননকার্যের অনুমতি দেওয়া হবে না।”

কেন এই নতুন সংজ্ঞার প্রয়োজন?

বিগত কয়েক দশকে খনি মাফিয়া এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা অরাবলীর বহু পাহাড় কেটে সমতল বানিয়ে ফেলেছে, যার জেরে দিল্লি, হরিয়ানা ও রাজস্থানের পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মক বিঘ্নিত হচ্ছে। অভিযোগ উঠছিল, আইনের ফাঁকফোকর গলে পাহাড়ের সংজ্ঞা বদলে দিয়ে দেদার খননকাজ চালানো হচ্ছিল। সেই কারণেই সুপ্রিম কোর্ট পরিবেশবিদ ও ভূবিজ্ঞানীদের নিয়ে একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছিল, যার কাজ হলো অরাবলীর কোন কোন এলাকা পরিবেশের জন্য অতি-সংবেদনশীল (Eco-Sensitive Zones) তা সুনির্দিষ্ট করা।

পরিবেশ রক্ষায় বড় জয়

সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের ফলে অরাবলী অঞ্চলে বাণিজ্যিক স্বার্থে পাহাড় কাটার ওপর সম্পূর্ণ রাশ টানা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদেরা। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং সবুজ ধ্বংস রুখতে দেশের বিচারব্যবস্থা কোনো স্তরে আপস করবে না। কমিটির চূড়ান্ত রিপোর্ট এবং শীর্ষ আদালতের পরবর্তী শুনানির ওপরই এখন নির্ভর করছে এই প্রাচীন পর্বতমালা ও সংলগ্ন এলাকার ভবিষ্যৎ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *