ভোট-পরবর্তী হিংসা ও ‘মিথ্যা মামলা’ রুখতে ময়দানে তৃণমূল, আক্রান্ত কর্মীদের আইনি সহায়তায় বিশেষ কমিটি গড়লেন মমতা

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর এবার দলের নিচুতলার কর্মী ও সংগঠকদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং তাঁদের আইনি সুরক্ষা দিতে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোট-পরবর্তী হিংসায় আক্রান্ত এবং নতুন জমানায় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া দলের নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ আইনি সহায়তা কমিটি (Legal Aid Committee) গঠন করা হয়েছে। দলের আইনজীবী নেতাদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে এই কমিটির রূপরেখা চূড়ান্ত করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আইনজীবী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক ও মমতার কড়া বার্তা
তৃণমূল সূত্রের খবর, নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘাসফুল শিবিরের কর্মীদের ওপর হামলা এবং পুলিশি ধরপাকড়ের ভুরিভুরি অভিযোগ আসছিল লালবাজারে ও দলের সদর দপ্তরে। এই পরিস্থিতিতে দলের আইনজীবী সেলকে সক্রিয় করতে জরুরি বৈঠকে বসেন তৃণমূল নেত্রী। বৈঠকে দলীয় কর্মীদের ওপর চলা আইনি ও রাজনৈতিক ‘আক্রমণ’ রুখতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে বলেন:
“রাজ্যের বহু জায়গায় আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের থানায় গিয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করতে আমাদের আইনজীবীদের সরাসরি সাহায্য করতে হবে। প্রয়োজনে উচ্চ আদালত পর্যন্ত মামলা লড়তে হবে।”
‘মিথ্যা মামলা’ ও গ্রেফতারি নিয়ে ক্ষোভ
বৈঠকে নতুন বিজেপি সরকারের জমানায় পুলিশের অতি-সক্রিয়তা এবং তৃণমূল নেতাদের সাম্প্রতিক গ্রেফতারি (যেমন কালিয়াচকের সাদ্দাম শেখ বা উত্তর দিনাজপুরের রন্তু দাসের গ্রেফতারি) নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং তৃণমূলের সংগঠনকে দুর্বল করতেই বেছে বেছে দলের সক্রিয় কর্মীদের পুরনো ও ‘মিথ্যা’ মামলায় ফাঁসিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। এই ধরণের সমস্ত মামলায় ধৃত কর্মীদের দ্রুত জামিন (Bail) এবং আইনি লড়াইয়ের সমস্ত খরচ দল বহন করবে বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন।
জেলায় জেলায় সক্রিয় হবে লিগ্যাল সেল
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, নবগঠিত এই আইনি কমিটি শুধুমাত্র কলকাতাকেন্দ্রীক থাকবে না। উত্তর থেকে দক্ষিণ—রাজ্যের প্রতিটি জেলা আদালতে তৃণমূলপন্থী আইনজীবীদের নিয়ে বিশেষ সাব-কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। কোনো এলাকায় দলের কোনো কর্মী আক্রান্ত হলে বা পুলিশি হেনস্থার শিকার হলে, এই সেলের আইনজীবীরা সরাসরি তাঁদের আইনি পরামর্শ ও আদালতে নিখরচায় সওয়াল জবাবের দায়িত্ব নেবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আইনি পথেই শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করা এবং কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিতেই এই মাস্টারস্ট্রোক দিলেন মমতা।