আইপিএল ফাইনালে আমন্ত্রিত পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি, আইসিসি বৈঠকের মাঝেই মেগা সৌজন্য বিসিসিআই-এর

চলতি আইপিএলের মেগা ফাইনালকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহলে এক নজিরবিহীন কূটনৈতিক ও সৌজন্যমূলক আবহ তৈরি হতে চলেছে। দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপড়েন এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বন্ধ থাকার মাঝেই, এবার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (IPL) গ্র্যান্ড ফাইনাল দেখার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) চেয়ারম্যান মহসিন নকভিকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানাল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। পশ্চিম এশিয়ায় চলা সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) যে ত্রৈমাসিক বৈঠকটি গত এপ্রিল মাসে স্থগিত হয়ে গিয়েছিল, সেটিই মে মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। আর সেই সুযোগকেই এক ঢিলে দুই পাখি মারার মতো কাজে লাগাল বিসিসিআই।
আইসিসি বৈঠকের জেরেই মেগা আমন্ত্রণ
এপ্রিল মাসে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আইসিসির পূর্বনির্ধারিত বৈঠকটি ভেস্তে যায়। আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, মে মাসের শেষ সপ্তাহে ভারতের মাটিতেই এই গুরুত্বপূর্ণ ত্রৈমাসিক বৈঠকটি সম্পন্ন করা হবে। এই মেগা বৈঠকে যোগ দিতে আইসিসির সমস্ত পূর্ণ সদস্য দেশের ক্রিকেট বোর্ড প্রধান ও শীর্ষ কর্তারা এই মুহূর্তে ভারতে আসছেন। যেহেতু বৈঠকের সময়কাল এবং আইপিএলের ফাইনাল ম্যাচ একই সপ্তাহের অন্তরালে পড়ছে, তাই ক্রিকেটীয় সৌজন্য বজায় রেখে বিসিসিআই বিশ্ব ক্রিকেটের সবকটি দেশের বোর্ড প্রধানদেরই ভিভিআইপি (VVIP) বক্সে বসে আইপিএল ফাইনাল উপভোগ করার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে।
নজর কাড়ছে মহসিন নকভির নাম
আমন্ত্রিত রাষ্ট্রগুলির এই দীর্ঘ তালিকার মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে নামটি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তা হলো পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি। ভারত-পাক রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হয় না। এমনকি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এই টানাপড়েনের আবহেই ভারতের মাটিতে বসে মহসিন নকভির আইপিএল ফাইনাল দেখার এই আমন্ত্রণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আসন্ন চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিয়ে বরফ গলার ইঙ্গিত?
ক্রীড়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বিসিসিআই-এর এই আমন্ত্রণের পেছনে শুধুমাত্র আইপিএলের জৌলুস দেখানোই একমাত্র লক্ষ্য নয়, এর পেছনে রয়েছে গভীর ক্রিকেটীয় কূটনীতি। আগামী ২০২৫-২৬ মরসুমের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আয়োজন নিয়ে দুই বোর্ডের মধ্যে পর্দার আড়ালে যে ঠান্ডা লড়াই চলছে, এই হাইপ্রোফাইল সাক্ষাতে তার একটি স্থায়ী সমাধান সূত্র বের হতে পারে। মহসিন নকভি যদি এই আমন্ত্রণ রক্ষা করে ভারতের মাটিতে আইপিএল ফাইনাল দেখতে উপস্থিত হন, তবে বিসিসিআই সভাপতি ও জয় শাহের সঙ্গে তাঁর ওয়ান-টু-ওয়ান বৈঠক দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের বরফ গলাতে বড় ভূমিকা নিতে পারে। এখন ক্রিকেট বিশ্বের নজর মে মাসের শেষ সপ্তাহের দিকে, কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে আইপিএলের ট্রফি নেওয়ার লড়াইয়ে ভিভিআইপি বক্সে পাকিস্তানের বোর্ড প্রধান উপস্থিত থাকেন কিনা।