রূপসী মুখ, নৃশংস মন! ওসামা বিন লাদেনের প্রেমে পাগল… কে এই নারী, যার নামে কাঁপত দুনিয়া?

রূপসী মুখ, নৃশংস মন! ওসামা বিন লাদেনের প্রেমে পাগল… কে এই নারী, যার নামে কাঁপত দুনিয়া?

বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে সাধারণত পুরুষ জঙ্গিদের নামই বেশি আলোচনায় আসে। তবে ইতিহাস সাক্ষী, বেশ কিছু নারী জঙ্গি তাদের চরম নিষ্ঠুরতা, চতুরতা এবং ভয়ংকর রণকৌশল দিয়ে একাধিকবার বিশ্বকে কাঁপিয়ে তুলেছে। কেউ আত্মঘাতী হামলার নেতৃত্ব দিয়েছে, কেউ জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের দায়িত্ব সামলেছে, আবার কেউ বছরের পর বছর ধরে বিশ্বের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ফাঁকি দিয়ে এসেছে। এই নারী জঙ্গিদের নেটওয়ার্ক ও নৃশংসতা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

‘হোয়াইট উইডো’ এবং লাদেনের প্রতি ভালোবাসা

বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক নারী জঙ্গিদের তালিকায় প্রথম নামটি আসে ব্রিটেনের সামান্থা লেথওয়েটের, যে বিশ্বজুড়ে ‘হোয়াইট উইডো’ নামে পরিচিত। ২০০৫ সালের লন্ডন মেট্রো রেল হামলার অন্যতম আত্মঘাতী হামলাকারী জার্মেইন মউরিস লিন্ডসের স্ত্রী ছিল এই সামান্থা। স্বামীর মৃত্যুর পর সে আল-শাবাব ও আল-কায়েদার মতো উগ্রপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়। ২০১৩ সালে কেনিয়ার ওয়েস্টগেট শপিং মল এবং কেনিয়া ইউনিভার্সিটিতে রক্তক্ষয়ী হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে তাকে অভিযুক্ত করা হয়। গোয়েন্দাদের দাবি, সামান্থা কিশোর ও নারীদের আত্মঘাতী বোমারু হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করত। আল-কায়েদা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে নিজের ‘সত্যিকারের ভালোবাসা’ আখ্যা দিয়ে কবিতা লেখার কারণেও সে বেশ আলোচিত হয়েছিল।

বিশ্ব কাঁপানো অন্য চার নারী স্কোয়াড

সামান্থা ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন জাজল রেড আর্মির প্রতিষ্ঠাতা ফুসাকো শিজেনোবু, যাকে ‘রেড কুইন’ বলা হতো। ১৯৭০ ও ৮০-এর দশকে বিশ্বজুড়ে কমিউনিস্ট বিপ্লব ঘটাতে মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে একাধিক হামলা ও জিম্মি সংকট তৈরি করেছিল সে। তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে সাজিদা আল-রিশাভি, যে ২০০৫ সালে জর্ডানের হোটেলে আত্মঘাতী হামলায় ব্যর্থ হয়ে ধরা পড়ে এবং ২০১৫ সালে যার ফাঁসি হয়। চতুর্থ জন হলো ফ্রান্সের নাগরিক হায়াত বুমেদিন, যে ২০১৫ সালের প্যারিস হামলার পর সিরিয়ায় পালিয়ে গিয়ে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জন্য ইউরোপীয় নারীদের অনলাইন রিক্রুটার হিসেবে কাজ শুরু করে। শেষ নামটি পেরুর উগ্রপন্থী সংগঠন ‘শাইনিং পাথ’-এর কুখ্যাত কমান্ডার এনরিকা মন্টেনেগ্রোর, যে ‘লা চিনিতা’ নামে পরিচিত ছিল এবং সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশ হত্যায় নিজস্ব স্কোয়াডের নেতৃত্ব দিত।

ভয়ংকর আত্মঘাতী বাহিনী ‘ব্ল্যাক উইডোজ’

নারী সন্ত্রাসবাদের ইতিহাসে চেচনিয়ার ‘ব্ল্যাক উইডোজ’ নামক আত্মঘাতী নারী স্কোয়াডটি সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম। রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে স্বামী বা ভাইকে হারানো এই চেচেন নারীরা চরমপন্থী পথ বেছে নেয়। মস্কো মেট্রো বিস্ফোরণ, থিয়েটার হামলা এবং ২০০৪ সালের বেসলান স্কুল জিম্মি সংকটের মতো ভয়াবহ ঘটনায় এদের আত্মঘাতী দল অংশ নিয়েছিল। বেসলান স্কুলের সেই নারকীয় হামলায় বিপুল সংখ্যক শিশুসহ ৩৩০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা বিশ্ববাসীকে স্তব্ধ করে দেয়। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল এবং চরমপন্থী মতাদর্শের বিস্তারে এই নারীদের ব্যবহার আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এক দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

এক ঝলকে

  • ব্রিটেনের সামান্থা লেথওয়েট ওরফে ‘হোয়াইট উইডো’ আল-শাবাব ও আল-কায়েদার হয়ে কেনিয়ায় একাধিক বড় জঙ্গি হামলার মাস্টারমাইন্ড ছিল।
  • জাজল রেড আর্মির প্রতিষ্ঠাতা ‘রেড কুইন’ ফুসাকো শিজেনোবু এবং জর্ডান হামলার আত্মঘাতী বোমারু সাজিদা আল-রিশাভি বিশ্বজুড়ে ত্রাস সৃষ্টি করেছিল।
  • আইএস-এর শীর্ষ অনলাইন রিক্রুটার হায়াত বুমেদিন এবং পেরুর খুনে স্কোয়াডের নেত্রী এনরিকা মন্টেনেগ্রো নারী জঙ্গি নেটওয়ার্কের অন্যতম প্রধান মুখ।
  • চেচনিয়ার ‘ব্ল্যাক উইডোজ’ নামক আত্মঘাতী নারী বাহিনী রাশিয়ার বেসলান স্কুল হামলাসহ বহু রক্তক্ষয়ী ঘটনার পেছনে দায়ী ছিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *