সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে সুর চড়ালো দিল্লি, পাকিস্তানকে এক ফোঁটা জলও না দেওয়ার হুঁশিয়ারি!

সিন্ধু নদ ও তার উপনদীগুলোর জল বণ্টন সংক্রান্ত ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ (আইডব্লিউটি) নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নতুন করে তীব্র রূপ নিয়েছে। গত ১৫ মে একটি কথিত আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা আদালত জল বণ্টন ও সর্বোচ্চ জলগ্রহণ এলাকা সংক্রান্ত একটি রায় ঘোষণা করে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে শনিবার এই রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ আখ্যা দিয়ে তা সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। নয়া দিল্লির স্পষ্ট বার্তা, এই আদালতের আইনি কোনো ভিত্তি নেই এবং জল চুক্তি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্তে ভারত এখনো অনড়।
সংঘাতের মূল কারণ
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বিতর্কিত এই মধ্যস্থতা আদালত গঠন করা নিজেই সিন্ধু জল চুক্তির একটি গুরুতর লঙ্ঘন। জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামে হওয়া সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করে এই চুক্তি স্থগিত ঘোষণা করেছিল। ভারতের মূল শর্ত হলো, পাকিস্তান যতদিন পর্যন্ত সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদে অর্থায়ন এবং মদদ দেওয়া বন্ধ না করবে, ততদিন এই চুক্তি কার্যকর করার কোনো প্রশ্নই আসে না।
সম্ভাব্য প্রভাব ও ভারতের অবস্থান
এই চুক্তি স্থগিত থাকার অর্থ হলো, ভারত বর্তমানে সিন্ধু জল চুক্তির আওতাধীন কোনো বাধ্যবাধকতা বা নিয়ম মানতে আইনত দায়বদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের উসকানিতে গঠিত এই বিশেষ আদালত ভারতের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের বৈধতা যাচাই করার এক্তিয়ার রাখে না বলে ভারত মনে করে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই কঠোর অবস্থানের ফলে পাকিস্তানের কৃষি ও জল সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে, যা দুই প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে।
এক ঝলকে
- গত ১৫ মে কথিত আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা আদালতের দেওয়া রায়কে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।
- পহেলগাম সন্ত্রাসী হামলার পর আন্তর্জাতিক আইন মেনে পাকিস্তানমুখী সিন্ধু জল চুক্তি আগেই স্থগিত করেছে নয়া দিল্লি।
- সীমান্ত পারের সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পাকিস্তানের সাথে জল চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে সাফ জানিয়েছে ভারত।
- চুক্তি স্থগিত থাকায় এই মুহূর্তে পাকিস্তানের দিকে জল ছাড়ার বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা মানবে না ভারত সরকার।