ঘুরে দাঁড়ানোর মেগা ব্লু-প্রিন্ট কালীঘাটে, অভিনব ও প্রতীকী কর্মসূচির ঘোষণা মমতার

মে মাসে রাজ্যে ক্ষমতার ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর তীব্র ধাক্কা খেয়ে এবার নতুন করে ঘর গোছাতে এবং ঘুরে দাঁড়াতে কোমর বেঁধে ময়দানে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে এবং জনসংযোগের নতুন রূপরেখা তৈরি করতে সোমবার কালীঘাটের বাসভবনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে বসেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই হাই-প্রোফাইল বৈঠকে তাঁর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বৈঠকে রাজ্যের সমস্ত জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য এবং প্রথম সারির নেতাদের উপস্থিতিতে ঘুরে দাঁড়ানোর একগুচ্ছ কড়া বার্তা দেন দলনেত্রী।
শহরের দলীয় কার্যালয়ে নিজে হাতে তুলি ধরবেন মমতা
বৈঠকে পরাজয়ের গ্লানি ঝেড়ে ফেলে এক অভিনব ও প্রতীকী কর্মসূচির ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলে নতুন উদ্দীপনা ফেরাতে এবং কর্মীদের একজোট করতে তিনি জানান, আগামী ৩-৪ দিন পর তিনি নিজেই কলকাতার একটি প্রধান দলীয় কার্যালয় নতুন করে রঙ করার কাজে হাত লাগাবেন। দলনেত্রীর নিজে হাতে রঙ করার এই কর্মসূচির দিনেই রাজ্যজুড়ে একযোগে এক বড়সড় ‘মেগা ড্রাইভ’ চালানো হবে। দলের সমস্ত জেলা, ব্লক ও আঞ্চলিক স্তরের কার্যালয়গুলি একই দিনে নতুন রঙে সাজিয়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন রঙে কার্যালয় সাজানোর এই বার্তা আসলে দলের ‘নতুন করে শুরু’ বা খোলনলচে বদলে ঘুরে দাঁড়ানোর এক প্রতীকী রাজনৈতিক কৌশল।
জেলা পরিষদের সদস্যদের জনসংযোগ বাড়ানোর কড়া বার্তা
কার্যালয় রঙের কর্মসূচির পাশাপাশি গ্রামীণ স্তরে দলের রাশ শক্ত করতে জেলা পরিষদের সদস্যদের একঝাঁক কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক সূত্রে খবর, নেতাদের উদ্দেশ্যে দলনেত্রীর স্পষ্ট বার্তা:
- মানুষের দুয়ারে ফিরুন: ভোটের ফলাফল যাই হোক না কেন, সাধারণ মানুষের থেকে কোনোভাবেই দূরত্ব তৈরি করা যাবে না। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে সর্বদা পাশে থাকতে হবে।
- তৃণমূল স্তরের ক্ষোভ প্রশমন: গ্রামীণ স্তরে আমজনতার মনে দলের প্রতি বা কোনো স্থানীয় নেতার প্রতি যদি কোনো পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থাকে, তবে তা আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত মেটাতে হবে।
- ঐক্যবদ্ধ লড়াই: দলের অন্দরের সমস্ত রকম উপদলীয় কোন্দল বা মতবিরোধ ভুলে এখন থেকে সবাইকে একযোগে মাঠে নেমে কাজ করতে হবে।
ক্ষমতা হারানোর পর এটাই ছিল তৃণমূলের প্রথম এত বড় স্তরের সাংগঠনিক বৈঠক। কালীঘাটের এই মেগা বৈঠক থেকে যে বার্তা স্পষ্ট—বিজেপি সরকারের অধীনে বাংলায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হলেও, মাঠ ছাড়তে নারাজ জোড়া-ফুল শিবির। বরং এই প্রতীকী ও জনসংযোগমূলক কর্মসূচির হাত ধরে তৃণমূল কংগ্রেস যে ২০২৬-এর এই কঠিন সময় থেকেই আগামী দিনের বড় লড়াইয়ের মাঠ প্রস্তুত করতে চাইছে, তা বলাই বাহুল্য।