ইডি দফতরে হাজিরা দিতেই নাটকের অবসান, ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্রেফতার হেভিওয়েট সোনা পাপ্পু

রাজ্যের জমি কেলেঙ্কারি ও কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি কাণ্ডে অবশেষে ধরা পড়ল আরও এক বড় মাথা। দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) গ্রেফতার করল প্রভাবশালী ব্যবসায়ী তথা সিন্ডিকেট ডন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে। জয় কামদার এবং শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের মতো হেভিওয়েটরা খাঁচাবন্দি হওয়ার পর থেকেই সোনা পাপ্পুর গ্রেফতারি ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। অবশেষে আজ সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে আসতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সির জালে ধরা পড়ল এই মোস্ট ওয়ান্টেড অভিযুক্ত।
রবীন্দ্র সরোবরের ঘটনার পর থেকেই চলছিল খোঁজ
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ কলকাতার রবীন্দ্র সরোবর এলাকায় একটি বহুতল আবাসন ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে এক মারাত্মক সিন্ডিকেট যুদ্ধ ও গোলমালের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনার মূল চক্রী হিসেবে নাম জড়িয়েছিল বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর। রবীন্দ্র সরোবরের ওই ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতারি এড়াতে গা-ঢাকা দিয়ে চলছিলেন তিনি। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির কর্তারা তাঁর সন্ধানে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালালেও বারবার সে ডেরা বদল করে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল।
জমি দখল থেকে তোলাবাজি, রয়েছে একগুচ্ছ মারাত্মক অভিযোগ
ইডি-র দাবি, সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে মূলত যে সমস্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই গ্রেফতারি, সেগুলি হলো:
- জমি দখল ও জালিয়াতি: কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার একাধিক মূল্যবান জমি ও পুরনো বাড়ি জালিয়াতির নথিপত্র তৈরি করে জোরপূর্বক দখল করা।
- তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট রাজ: প্রোমোটার ও বড় ব্যবসায়ীদের ভয় দেখিয়ে কোটি কোটি টাকার তোলা আদায় এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিম্নমানের সামগ্রী চড়া দামে সাপ্লাই করতে বাধ্য করা।
- আর্থিক তছরুপ: জমি প্রতারণা ও তোলাবাজির মাধ্যমে উপার্জিত কালো টাকা ভুয়ো বা শেল কো ম্পা নির মাধ্যমে সাদা করার (Money Laundering) মারাত্মক তথ্য মিলেছে ইডি-র হাতে।
একের পর এক বয়ানে অসঙ্গতি, ইডি-র হাতে গ্রেফতার
আজ সকালে আইনজীবীদের সাথে নিয়ে হঠাৎ করেই ইডি দফতরে হাজিরা দিতে আসেন সোনা পাপ্পু। তদন্তকারীরা বসিয়ে রেখে জেরা শুরু করলে, জয় কামদার ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সাথে তাঁর আর্থিক লেনদেনের নথি সামনে রাখা হয়। ইডি সূত্রের খবর, রবীন্দ্র সরোবরের ঘটনা এবং বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে একের পর এক প্রশ্নে সোনা পাপ্পুর বয়ানে চরম অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বহু নথির কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় এবং তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে ৯ ঘণ্টার মাথায় তাঁকে অফিশিয়ালি গ্রেফতার করা হয়। আগামীকালই ধৃত সোনা পাপ্পুকে বিশেষ ইডি আদালতে পেশ করে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।