পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের দুঁদে আইপিএস দময়ন্তী সেনকে ফেরালেন শুভেন্দু, নারী সুরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রীর মেগা কমিটিতে বড় দায়িত্ব

পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের দুঁদে আইপিএস দময়ন্তী সেনকে ফেরালেন শুভেন্দু, নারী সুরক্ষায় মুখ্যমন্ত্রীর মেগা কমিটিতে বড় দায়িত্ব

২০১২ সালের সেই বহুল চর্চিত ও নৃশংস পার্ক স্ট্রিট গণধর্ষণ কাণ্ডের তদন্তকারী অফিসার তথা তদানিন্তন আইপিএস (IPS) আধিকারিক দময়ন্তী সেনকে আবার রাজ্যের মূল প্রশাসনিক স্রোতে ফিরিয়ে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিগত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যত ‘কোণঠাসা’ ও কম গুরুত্বপূর্ণ পদে ফেলে রাখা এই দুঁদে নারী পুলিশ আধিকারিককে এবার রাজ্যের নারী নির্যাতনের ঘটনা রুখতে ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় গতি আনতে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হলো।

রাজ্যে মহিলাদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি উচ্চপর্যায়ের ‘বিশেষ টাস্ক ফোর্স’ বা নতুন কমিটি গঠন করেছেন। সেই মেগা কমিটির অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবেই অন্তর্ভুক্ত করা হলো দময়ন্তী সেনকে।

সত্যের সন্ধানে অনড় থাকায় মমতার জমানায় জুটেছিল ‘শাস্তি’

২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে পার্ক স্ট্রিটের এক নাইটক্লাব থেকে বেরোনোর পর চলন্ত গাড়িতে গণধর্ষণের শিকার হন লড়াকু তরুণী সুজেট জর্ডন। সেই সময় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাটিকে প্রকাশ্যে ‘ছোট্ট ঘটনা’ এবং ‘সাজানো ঘটনা’ (Short Incident/Fabricated) বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন কলকাতা পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের প্রধান (Joint CP Crime) দময়ন্তী সেন মুখ্যমন্ত্রীর সেই রাজনৈতিক তত্ত্ব বা বয়ানের তোয়াক্কা না করে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যান।

দময়ন্তী সেনের নির্ভীক ও নিখুঁত তদন্তের জেরেই পার্ক স্ট্রিট কাণ্ডের মূল অপরাধীরা চিহ্নিত হয় এবং শেষ পর্যন্ত সাজা পায়। কিন্তু সত্য প্রকাশ করার ‘পুরস্কার’ হিসেবে তৎকালীন সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছিল এই দুঁদে আইপিএস-কে। ঘটনার পরপরই তাঁকে লালবাজারের গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ ও লুপ লাইনের পদে বদলি করে দেওয়া হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, তারপর থেকে দীর্ঘ বছর ধরে যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো বড় মামলার তদন্তভার বা বড়সড় দায়িত্ব তাঁকে দেওয়া হয়নি।

নতুন সরকারের নারী সুরক্ষার মেগা অস্ত্র দময়ন্তী

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে নারী নিরাপত্তা নিয়ে একগুচ্ছ কড়া পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আরজি কর আবহে মহিলাদের সুরক্ষা এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির লক্ষ্যে যে নয়া তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার জন্য দময়ন্তী সেনের মতো সৎ, নির্ভীক ও অভিজ্ঞ আধিকারিককেই সবচেয়ে যোগ্য মনে করেছে নবান্ন।

প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দময়ন্তী সেনকে এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে ফিরিয়ে এনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন মেধার সঠিক মূল্যায়ন করলেন, তেমনই অপরাধীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি (Zero Tolerance Policy) গ্রহণের এক স্পষ্ট বার্তাও দিলেন। দময়ন্তীর এই প্রত্যাবর্তনে রাজ্যের পুলিশ মহলেও এক বাড়তি উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *