একুশের ভোট পরবর্তী হিংসার ক্ষত খোঁচাতে মরিয়া নবান্ন, রাজ্য জুড়ে নতুন করে ১৮১টি এফআইআর দায়ের

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনাগুলি নিয়ে এবার এক নজিরবিহীন ও অত্যন্ত বড়সড় আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটল রাজ্যের নতুন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরপরই শুভেন্দু অধিকারী পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সাথে একাধিক বৈঠকে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, একুশের সেই রক্তক্ষয়ী হিংসার মামলাগুলির ফাইল ধামাচাপা দিয়ে রাখা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রীর সেই কড়া নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেই এবার কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছে রাজ্য পুলিশ।
গত শনিবার নবান্নে পুলিশকর্তাদের সাথে মুখ্যমন্ত্রীর এক উচ্চপর্যায়ের গোপন বৈঠকের পরেই রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে এই মেগা অ্যাকশন। সূত্রের খবর, ওই সময়ের ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনাগুলির তদন্ত নতুন করে শুরু করতে রাজ্য পুলিশ ইতিমধ্যেই গোটা রাজ্য জুড়ে তৎপরতা তুঙ্গে তুলেছে।
ফাইল খুলল ৪৫৮টি ঘটনার, কোপ পড়তে চলেছে বহু চুনোপুঁটি ও রাঘববোয়ালের ওপর
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নবান্নের সবুজ সংকেত মেলার পরেই রাজ্য পুলিশ একযোগে ৪৫৮টি ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার ফাইল নতুন করে খুলে তদন্ত (Re-investigation) শুরু করে দিয়েছে।
- নতুন এফআইআর: প্রাথমিক স্ক্রুটিনির পর ওই সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন হিংসাত্মক ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য জুড়ে মোট ১৮১টি মামলায় সম্পূর্ণ নতুন করে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
- মূল লক্ষ্য: যেসব ঘটনায় তৎকালীন শাসকদলের একাংশের বিরুদ্ধে খুন, নারী নির্যাতন, বাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক চাপে পুলিশ মামলা হালকা করেছিল, সেই সমস্ত ঘটনাকেই এবার অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন ও গ্রেফতারির আশঙ্কা
২০২১ সালের নির্বাচনের পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে বিজেপি ও বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকদের ওপর যে ভয়াবহ অত্যাচার চালানোর অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে জাতীয় স্তরেও জলঘোলা কম হয়নি। মানবাধিকার কমিশন থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিও সেই সময় ময়দানে নেমেছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ রাজ্যের বিরোধী শিবির বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা স্তরের নেতা ও ক্যাডারদের ওপর এক মস্ত বড় থ্রেট বা চাপ তৈরি করতে চলেছে। নতুন করে এফআইআর দায়ের হওয়ায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রাজ্য জুড়ে ব্যাপক গ্রেফতারি শুরু হতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একুশের সেই পুরোনো মামলার ফাইল নতুন সরকারের হাত ধরে পুনরায় সচল হওয়াটা যে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় আরও বাড়িয়ে দিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।