৪৫ ডিগ্রির দহনজ্বালায় পুড়ছে দিল্লি, উত্তর ভারত জুড়ে চরম তাপপ্রবাহের সতর্কতা

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই তীব্র গরমে নাজেহাল দেশবাসী। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস সত্যি করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চরম আবহাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানী দিল্লিতে সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া দফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে দিল্লির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা একলাফে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যেতে পারে। শুধু দিল্লিই নয়, সমগ্র উত্তর ও মধ্য ভারত জুড়েই আগামী কয়েকদিন এই চরম উষ্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া বদলের কারণ ও বিস্তৃতি
কয়েকদিন আগে পর্যন্ত দিল্লির আবহাওয়া কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হঠাৎই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, পূর্ব দিক থেকে আসা আর্দ্র বাতাসের বদলে এখন দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় মধ্য পাকিস্তান এবং রাজস্থান থেকে শুকনো ও উষ্ণ বাতাস প্রবেশ করছে। উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে আসা এই গরম বাতাসের কারণেই তাপমাত্রার পারদ দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা কম থাকায় ঘাম হচ্ছে না, ফলে শুকনো গরমে মানুষসহ সমস্ত জীবজগৎ হাঁসফাঁস করছে। সমতলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি পেরোলে এবং তা স্বাভাবিকের চেয়ে সাড়ে চার ডিগ্রি বেশি হলে তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়। তবে দিল্লির তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি ছুঁতে চলায় সেখানে প্রবল তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দিল্লির আগেই অবশ্য বিদর্ভে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে গিয়েছে। আগামী শনিবার পর্যন্ত দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্তীশগড়ের পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অংশেও এই প্রবল দহনজ্বালা বজায় থাকবে।
জনজীবনে প্রভাব ও সুস্থ থাকার উপায়
এই তীব্র তাপপ্রবাহের ফলে জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সকাল থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রচণ্ড গরমের পর রাতেও মিলছে না স্বস্তি। ফলে ২৪ ঘণ্টাই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে দিনমজুর এবং যাঁদের কাজের প্রয়োজনে দিনের বেলা বাইরে বেরোতে হচ্ছে, তাঁরা চরম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। শিশু, প্রবীণ ও গর্ভবতীদের শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছেন। এই সময়ে সুস্থ থাকতে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়েছে। শরীরে জলের ঘাটতি মেটাতে তৃষ্ণা পাওয়ার অপেক্ষা না করেই সারাদিন প্রচুর পরিমাণে জল, লস্যি, লেবুর জল বা ওআরএস-এর মতো তরল পানীয় গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাইরে বেরোলে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা এবং মাথা টুপি বা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।