সরকারি কর্মীদের হাসি ফিকে! জুন থেকে কোন অনুদান বন্ধ করতে চলেছে শুভেন্দুর সরকার?

রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে একগুচ্ছ বড়সড় ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত নিল শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। সোমবারের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে মন্ত্রিসভার একাধিক নীতিগত অনুমোদনের কথা ঘোষণা করেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। নতুন সরকারের এই পদক্ষেপে যেমন রয়েছে জনমোহিনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, তেমনই রয়েছে পূর্বতন সরকারের বেশ কিছু নীতিতে বড়সড় বদলের ইঙ্গিত।
জনকল্যাণে বড় ঘোষণা ও নতুন প্রকল্প
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে রাজ্যে চালু হতে চলেছে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় মহিলারা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট করে দেন, পূর্বতন সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের উপভোক্তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন প্রকল্পে স্থানান্তরিত হবে এবং সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছাবে। এছাড়া, সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদনকারীরাও এই সুবিধার আওতায় আসবেন। একই সঙ্গে আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি বাসে মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সফরের প্রস্তাবেও নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বেতন কমিশন গঠন ও ডিএ-র অপেক্ষা
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি মেনে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভা সপ্তম বেতন কমিশন গঠনে সবুজসংকেত দিয়েছে। তবে এই বৈঠকে বকেয়া মহার্ঘভাতা বা ডিএ নিয়ে কোনও আলোচনা না হওয়ায় কর্মীদের একাংশের মনে কিছুটা প্রত্যাশাভঙ্গ হয়েছে। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আগামী দিনে পাক্ষিক ভিত্তিতে হতে চলা মন্ত্রিসভার বৈঠকে ধাপে ধাপে ডিএ সহ সমস্ত বকেয়া বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
নীতিগত পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
নতুন সরকারের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত হলো ধর্মীয় শ্রেণিবিন্যাসের ভিত্তিতে চলা সমস্ত সরকারি অনুদান বন্ধ করা। আগামী জুন মাস থেকে তথ্য-সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের অধীনে থাকা এই ধরনের প্রকল্পগুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি, ওবিসি সংরক্ষণ ও শংসাপত্র নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে উপশ্রেণিবিভাগ বাতিল এবং তালিকা পুনর্বিবেচনার জন্য নতুন করে তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য।
প্রশাসনিক এই রদবদল এবং বিপুল আর্থিক বরাদ্দের প্রকল্পগুলি রাজ্যের কোষাগারের ওপর কেমন প্রভাব ফেলে এবং ওবিসি তালিকার পুনর্বিবেচনা সামাজিক স্তরে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি করে, এখন সেটাই দেখার।