ইদের আগে পশুবলি ও শংসাপত্র বিতর্ক, জটিলতা কাটাতে শুভেন্দুর দরবারে নওশাদ

ইদের আগে পশুবলি ও শংসাপত্র বিতর্ক, জটিলতা কাটাতে শুভেন্দুর দরবারে নওশাদ

সামনেই ইদ-উল-আজহা বা কোরবানির ইদ। তার আগেই রাজ্যের পশুবলি সংক্রান্ত নতুন আইনি কড়াকড়ি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষ ও পশু ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এই পরিস্থিতিতে উদ্ভূত জটিলতা নিরসন এবং আইনি ছাড়ের দাবিতে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান তথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বারস্থ হলেন ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠিয়ে তিনি পশুবলির ক্ষেত্রে বিশেষ আইনি অব্যাহতি এবং প্রতিটি পঞ্চায়েত স্তরে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো তৈরির দাবি জানিয়েছেন। উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থার অভাবে যাতে দরিদ্র ব্যবসায়ী বা সাধারণ মানুষকে হেনস্থার শিকার হতে না হয়, চিঠিতে সেই আবেদনই করেছেন বিধায়ক।

আইনি ছাড় ও পঞ্চায়েতে চিকিৎসক নিয়োগের দাবি

মুখ্যমন্ত্রীকে দেওয়া চিঠিতে নওশাদ সিদ্দিকি উল্লেখ করেন, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল অ্যানিম্যাল স্লটার কন্ট্রোল অ্যাক্ট, ১৯৫০’-এর ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ধর্মীয় উদ্দেশ্যে পশুবলির ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারকে বিশেষ ছাড় বা অব্যাহতি দেওয়ার আইনি ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের ভাবাবেগ এবং ধর্মীয় অধিকারের কথা মাথায় রেখে এই ধারা প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, সমস্ত ধর্মীয় রীতিনীতি শান্তি বজায় রেখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সম্পন্ন করা হবে।

পাশাপাশি, কোরবানির পশুর শারীরিক সক্ষমতার শংসাপত্র বা ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ পাওয়ার ভোগান্তি দূর করতে প্রতিটি পঞ্চায়েত অফিসে ইদ পর্যন্ত সরকারি পশু চিকিৎসক মোতায়েনের দাবি জানিয়েছেন নওশাদ। তাঁর মতে, সময়মতো শংসাপত্র না মেলায় প্রতি বছর দরিদ্র পশু ব্যবসায়ী ও কৃষকরা চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। পঞ্চায়েত স্তরে চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখাও সহজ হবে।

সরকারি কড়াকড়ির কারণ ও নতুন নির্দেশিকা

কিছুদিন আগেই রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশুবলি দেওয়া এখন থেকে দণ্ডনীয় অপরাধ। মূলত গরু, মহিষ, বলদ বা বাছুরের মতো গবাদি পশু বলির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশাবলি পালন, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতেই ১৯৫০ সালের আইনের এই কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে চাইছে রাজ্য প্রশাসন।

নতুন এই সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, পশুবলির আগে সংশ্লিষ্ট পুরসভার চেয়ারম্যান বা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশুচিকিৎসকের যৌথ শংসাপত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া, পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি হতে হবে অথবা বার্ধক্য বা অসুস্থতার কারণে স্থায়ীভাবে কাজ করতে অক্ষম হতে হবে। একই সাথে, শংসাপত্র থাকলেও প্রকাশ্য স্থানে বা রাস্তার ধারে পশুবলি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে; এই প্রক্রিয়া কেবল প্রশাসন অনুমোদিত কসাইখানাতেই সম্পন্ন করা যাবে। এই নিয়ম অমান্য করলে জেল ও জরিমানার মতো কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষা এবং সরকারের কঠোর স্বাস্থ্যবিধির এই টানাপোড়েনের মাঝে ভাঙড়ের বিধায়কের এই চিঠি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ইদের আগে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থে রাজ্য সরকার এই নিয়মে কোনো শিথিলতা আনে কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *