লাল সন্ত্রাস অতীত, ছত্তিশগড়ের মাটি থেকে দেশকে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণার ঐতিহাসিক বার্তা অমিত শাহের

লাল সন্ত্রাস অতীত, ছত্তিশগড়ের মাটি থেকে দেশকে মাওবাদীমুক্ত ঘোষণার ঐতিহাসিক বার্তা অমিত শাহের

এককালের ভারতের মাওবাদের আঁতুড়ঘর ছত্তিশগড়ের বস্তার এখন শান্ত। গুলি-বোমা আর রক্তের দাগ মুছে সেখানে বইছে শান্তির বাতাস। সোমবার সেই বস্তারে দাঁড়িয়েই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সদর্পে ঘোষণা করেছেন, ভারত এখন সম্পূর্ণভাবে মাওবাদীমুক্ত। কয়েক বছর আগে লাল সন্ত্রাসকে কফিনবন্দি করার যে লক্ষ্য নেওয়া হয়েছিল, তা সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। বস্তারের নেতানারে এক সরকারি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে দেশকে নকশালমুক্ত করার যে অঙ্গীকার ২০২৪ সালের শুরুতে নেওয়া হয়েছিল, তা আজ বাস্তব।

সন্ত্রাসের শিবিরে এবার জনসেবার আলো

বস্তার অঞ্চলের এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে এক সুপরিকল্পিত রণকৌশল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যে ক্যাম্পগুলো একসময় মাওবাদীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিরাপত্তাবাহিনী ব্যবহার করত, সেগুলোকে এখন রূপ দেওয়া হচ্ছে ‘জনসেবা কেন্দ্রে’। নেতানারে তেমনই একটি কেন্দ্রের উদ্বোধন করে তিনি একে আগামী দিনের ‘বস্তার মডেল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২০০টি শিবিরের মধ্যে ৭০টিকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী নেতা বীর গুণ্ডাধুরের স্মরণে এই কেন্দ্রগুলির নামকরণ করা হচ্ছে ‘শহিদ বীর গুণ্ডাধুর সেবা ডেরা’। এই কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ একই ছাদের তলায় বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংকিং ও দক্ষতা উন্নয়নের মতো প্রয়োজনীয় পরিষেবা পাবেন।

উন্নয়নের হাত ধরেই ফিরছে মূল স্রোত

দীর্ঘদিন ধরে নকশালবাদের কারণে বস্তার সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চল শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামোয় পিছিয়ে পড়েছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ‘অপারেশন ব্ল্যাক ফরেস্ট’-এর মতো অত্যন্ত কঠিন ও সফল অভিযানের ফলেই এই অঞ্চলে মাওবাদী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে শুধু সামরিক শক্তি নয়, এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন। নকশাল দমনের পর সরকারের মূল লক্ষ্য এখন ছত্তিশগড়ের সার্বিক উন্নয়ন।

এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের ফলে আগামী দিনে বস্তার সহ সমগ্র ছত্তিশগড়ে ব্যাপক আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য দ্রুত তৈরি হচ্ছে রাস্তাঘাট ও সেতু। প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের পর নকশাল সমস্যা দূর হওয়া দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক বিকাশে এক বড় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে চলেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *