রুশ হামলা ঠেকাতে এবার ইউক্রেনের হাতে চিনা ক্ষেপণাস্ত্র, নেপথ্যে কোন রহস্য!

রুশ হামলা ঠেকাতে এবার ইউক্রেনের হাতে চিনা ক্ষেপণাস্ত্র, নেপথ্যে কোন রহস্য!

ইউক্রেন তথা পশ্চিমি দুনিয়ার বিরুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক পদক্ষেপকে কূটনৈতিক স্তরে বেজিং সমর্থন জানালেও যুদ্ধক্ষেত্রের এক নতুন ছবি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি রুশ আকাশহানা ঠেকাতে ইউক্রেনীয় বাহিনীকে চিনের তৈরি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে। চিনের তৈরি এফএন-১৬ ম্যানপ্যাড (ম্যান পোর্টেবল এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) হাতে ইউক্রেনীয় সেনাদের ছবি প্রকাশ্যে আসার পরেই সামরিক ও কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কাঁধে রেখে যুদ্ধবিমান ধ্বংসের নয়া অস্ত্র

চিনা প্রযুক্তিতে তৈরি এফএন-১৬ ম্যানপ্যাড মূলত নিচু দিয়ে ওড়া শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার বা ড্রোন নিমেষে এবং নিখুঁত ভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম। মাত্র এক জন সেনাই এটি কাঁধে বহন করে উৎক্ষেপণ করতে পারেন। এই ক্ষেপণাস্ত্রে বিশেষ ‘থার্মাল সেন্সর’ বসানো রয়েছে, যা ৬ কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে উড়ন্ত নিশানা খুঁজে নিয়ে আঘাত হানতে পারে। রাশিয়ার লাগাতার ড্রোন ও বিমান হামলা প্রতিরোধে ইউক্রেনীয়দের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। মস্কোর ঘনিষ্ঠ মিত্র চিনের তৈরি অস্ত্র কীভাবে ইউক্রেনের হাতে পৌঁছাল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

অস্ত্র প্রাপ্তির নেপথ্যে সম্ভাব্য কারণ ও প্রভাব

সামরিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই ম্যানপ্যাডগুলি সরাসরি চিন থেকে ইউক্রেনে আসেনি। একটি বড় সম্ভাবনা হলো, এই অস্ত্রগুলো আদতে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের জন্য পাঠানো হয়েছিল, যা সমুদ্রপথে ইরান থেকে আসার সময় মার্কিন নৌসেনা বা তাদের মিত্র দেশগুলি মাঝপথে বাজেয়াপ্ত করে। এর আগেও পেন্টাগন এভাবে বাজেয়াপ্ত করা হাজার হাজার ইরানি রাইফেল ও গোলাবারুদ ইউক্রেনকে সরবরাহ করেছিল। অন্য একটি সম্ভাবনা অনুযায়ী, চিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অস্ত্র রফতানি করে থাকে। ফলে ইউক্রেন হয়তো কোনো মধ্যস্থতাকারী দেশ বা তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছ থেকে এই চিনা অস্ত্র সংগ্রহ করেছে।

এই ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন জটিলতা তৈরি হতে পারে। চিনা অস্ত্র ব্যবহারের ফলে রাশিয়ার অভ্যন্তরে বেজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে সাময়িক অস্বস্তি তৈরি হওয়া আসাম্ভব নয়। তবে এটি যদি চোরাই পথে বা বাজেয়াপ্ত করা চালানের অংশ হয়ে থাকে, তবে তা বিশ্বজুড়ে অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের নেটওয়ার্ক এবং যুদ্ধক্ষেত্রে তৃতীয় পক্ষের অস্ত্রের অনুপ্রবেশের বিষয়টিকে আরও একবার খতিয়ে দেখার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তুলবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *