কালবৈশাখীর দাপটে ভিজবে দক্ষিণবঙ্গ, তবে কমবে না অস্বস্তিকর গরম!

চলতি সপ্তাহে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে তীব্র গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকলেও স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। বুধবার থেকেই দক্ষিণের একাধিক জেলায় প্রবল বজ্রপাত ও কালবৈশাখীর সতর্কতা জারি করা হয়েছে। তবে এই বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টির জেরে মেঘ কাটলেই তাপমাত্রা কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদেরা। মূলত স্থানীয়ভাবে তৈরি হওয়া বজ্রগর্ভ মেঘের কারণেই এই ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।
কোথায় কেমন থাকবে আবহাওয়া
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৯ ও ২০ মে দক্ষিণবঙ্গের নদীয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রবল ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ২০ তারিখের পর থেকে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং দুই বর্ধমানে বজ্রগর্ভ মেঘ সঞ্চার হয়ে তীব্র বজ্রপাত ও দমকা হাওয়া বইতে পারে। অন্যদিকে, কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আগামী সাত দিন গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ বজায় থাকলেও এর মধ্যে অন্তত দুদিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
দক্ষিণবঙ্গ যখন গরমে পুড়ছে, তখন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ২০ মে অর্থাৎ বুধবার থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। বৃহস্পতিবার থেকে উত্তরবঙ্গের এই জেলাগুলিতে দমকা হাওয়ার পাশাপাশি বৃষ্টির তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস।
কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব
গ্রীষ্মকালীন চরম উষ্ণতা এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণে বায়ুমণ্ডলে স্থানীয়ভাবে এই বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি হচ্ছে, যা কালবৈশাখীর রূপ নিচ্ছে। এই ঝড়-বৃষ্টির ফলে সাময়িকভাবে আবহাওয়া ঠান্ডা হলেও সার্বিক তাপমাত্রায় বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে পারদ ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশেই থাকবে এবং কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা থাকবে ৩৬ ডিগ্রির কাছাকাছি। হঠাৎ ধেয়ে আসা তীব্র বজ্রপাত এবং দমকা হাওয়ার কারণে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকায়, আবহাওয়া দফতরের পক্ষ থেকে ঝড়-বৃষ্টির সময় সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।