ভোটের মুখে ফলতায় ‘নিখোঁজ’ তৃণমূল, অভিষেককে তীব্র কটাক্ষ সুজনের

আগামী বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন। মঙ্গলবার বিকেলে শেষ হয়েছে এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার পর্ব। নিয়ম মেনে বিজেপি এবং বামফ্রন্ট কোমর বেঁধে ময়দানে নামলেও, ফলতার রাজনৈতিক চিত্রপটে কার্যত সম্পূর্ণ অনুপস্থিত রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটের ফলাফল বিপর্যয়ের পর থেকেই এলাকার সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোথাও দেখা যাচ্ছে না। দলের এই নিষ্ক্রিয়তা এবং সাংসদের ‘অদৃশ্য’ থাকা নিয়ে এবার তীব্র উপহাস ও রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী।
তৃণমূলের প্রচারহীনতা ও সুজনের খোঁচা
লোকসভা নির্বাচনে রেকর্ড ৮ লক্ষাধিক ভোটে জয়ী ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই জনসমক্ষে আসছেন না। ফলতার পুনর্নির্বাচন ঘিরেও সামাজিক মাধ্যম কিংবা নির্বাচনী সভা, কোথাও তাঁর উপস্থিতি নেই। এই পরিস্থিতিকে হাতিয়ার করে বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ লিখেছেন, “৮ লাখে জিতে পিসির বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজ্য রাজনীতিতে বিপুল পুলিশি নিরাপত্তা বেষ্টিত হয়ে চলা সাংসদ ভোটের পর কেন ঘরবন্দি? এই ঘটনাকে ঘিরে বর্তমানে রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
ভোটের ময়দানে নয়া সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ গোটা রাজ্যে তৃণমূলের নজিরবিহীন ভরাডুবি এবং বিজেপির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরের মনোবল ভেঙে পড়েছে। তৃণমূলের দুর্গ বলে পরিচিত এই জেলাতেই দলের এমন বিপর্যয় এবং শীর্ষ নেতৃত্বের নিষ্ক্রিয়তা নিচুতলার কর্মীদের আরও দিশেহারা করে তুলেছে। এর ফলে পুনর্নির্বাচনের মুখে দাঁড়িয়েও দলগতভাবে কোনো প্রতিরোধ বা প্রচার গড়ে তুলতে পারেনি তারা।
প্রার্থীর দলবদল ও সম্ভাব্য প্রভাব
ফলতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও নাটকীয় মোড় নেয় মঙ্গলবার বেলায়, যখন তৃণমূলের ‘বাহুবলি’ প্রার্থী জাহাঙ্গির খান আচমকা সাংবাদিক বৈঠক করে ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেন। শুধু তাই নয়, তিনি বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও করেন। দিনকয়েক আগেই ফলতার সভা থেকে শুভেন্দু অধিকারী জাহাঙ্গির খানের ‘ভার’ নিজের কাঁধে নেওয়ার বার্তা দিয়েছিলেন। ভোটগ্রহণের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রার্থীর এভাবে ময়দান ছাড়া এবং মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আনুগত্য প্রকাশ ফলতায় তৃণমূলের রাজনৈতিক অস্তিত্বকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনার প্রভাবে ফলতার পুনর্নির্বাচনে শাসক দল বিজেপি রাজনৈতিকভাবে একচেটিয়া মাইলেজ পেতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।