গণহত্যার কলঙ্ক গায়ে মেখে কাশ্মীর নিয়ে কথা বলা হাস্যকর, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ‘৭১’ মনে করিয়ে দিল ভারত

গণহত্যার কলঙ্ক গায়ে মেখে কাশ্মীর নিয়ে কথা বলা হাস্যকর, রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে ‘৭১’ মনে করিয়ে দিল ভারত

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক বিতর্কসভায় কাশ্মীর প্রসঙ্গ টেনে ভারতের কাছে তীব্র কটাক্ষের শিকার হলো পাকিস্তান। জম্মু ও কাশ্মীর নিয়ে ইসলামাবাদের খোঁচাকে নস্যাৎ করে দিয়ে নয়াদিল্লি সাফ জানিয়েছে, যে দেশের গায়ে ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী গণহত্যার কলঙ্ক রয়েছে, তাদের মুখে নীতির কথা মানায় না। বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা ও হিংসা ছড়ানোর রাজনীতিকে এভাবেই তুলোধোনা করেছে ভারত।

অপারেশন সার্চলাইট ও রক্তাক্ত ইতিহাস

নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক বিতর্কসভায় রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বথানেনি পাকিস্তানের দ্বিমুখী নীতিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে পাক সেনাবাহিনী নিজেদের দেশেরই প্রায় চার লক্ষ নারীর ওপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিল এবং নির্বিচারে গণহত্যা করেছিল। ভারতের দাবি, এই দীর্ঘ ও কলঙ্কিত ইতিহাস প্রমাণ করে যে পাকিস্তান নিজের দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরে প্রতিনিয়ত হিংসা ছড়িয়ে যাচ্ছে। নিজেদের অভ্যন্তরীণ চরম ব্যর্থতা থেকে আন্তর্জাতিক মহলের নজর ঘোরাতেই বারবার ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা নাক গলাচ্ছে।

কাবুল হামলা ও পাকিস্তানের দ্বিচারিতা

কাশ্মীর ইস্যুর পাশাপাশি আফগানিস্তানে ইসলামাবাদের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযান নিয়েও সুর চড়িয়েছে নয়াদিল্লি। চলতি বছর পবিত্র রমজান মাসে কাবুলের একটি হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলার ঘটনাটি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে ভারত। এই কাপুরুষোচিত ও হিংসাত্মক হামলায় ২৬৯ জন নিরীহ নাগরিকের মৃত্যু হয় এবং ১২২ জন গুরুতর আহত হন। ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি স্পষ্ট জানান, যারা অন্ধকারে নিরীহ সাধারণ মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাদের মুখে কোনো নীতিবাক্যই মানায় না।

আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রসংঘের মতো সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক মঞ্চে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের গণহত্যার প্রসঙ্গ এবং কাবুলের সাম্প্রতিক হাসপাতালে হামলার খতিয়ান তুলে ধরে ভারত অত্যন্ত আগ্রাসী কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক মহলে সন্ত্রাসবাদ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইস্যুতে পাকিস্তান আরও বেশি কোণঠাসা হয়ে পড়বে। অন্যদিকে, এই তীব্র বাদানুবাদের জেরে দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও সীমান্ত উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *