ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর তুমুল ঝগড়া, ফাটল কি তবে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বে!

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর রসায়ন চিরকালই বেশ চর্চিত। তবে এবার সেই সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল ধরার ইঙ্গিত মিলেছে। ইরান যুদ্ধ এবং শান্তি আলোচনা সংক্রান্ত কৌশল নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এক্সিওস’-এর একটি সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই ইস্যুতে দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে ফোনে দীর্ঘক্ষণ তুমুল বাগবিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছে, যা ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ক্ষোভকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
দ্বিধাবিভক্ত দুই রাষ্ট্রনায়ক
নেতানিয়াহুর ক্ষোভের মূল কারণ ইরান নিয়ে দুই দেশের যুদ্ধনীতির ভিন্নতা। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী তেহরানের সামরিক পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেশটির শাসনব্যবস্থাকে অকেজো করার পক্ষে। এর জন্য তিনি পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু করতে আগ্রহী এবং যেকোনো ধরনের শান্তি আলোচনা নিয়ে যথেষ্ট সন্দিহান। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে সামরিক সংঘাতে জড়াতে নারাজ। তিনি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে চলমান সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধান করতে চান। তবে ট্রাম্প এটিও স্পষ্ট করেছেন যে, আলোচনার টেবিল ব্যর্থ হলে তিনি ইরানে আরও বড় হামলা চালাতে প্রস্তুত।
মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য প্রভাব
এক্সিওসের রিপোর্ট অনুযায়ী, মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি শ্বেতপত্র স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে, যার অধীনে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ সমাপ্তির পর ৩০ দিনের একটি বিশেষ আলোচনা পর্ব শুরু হবে। এই আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালীর মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ওয়াশিংটনের এই কূটনৈতিক কৌশলে তেল আভিভ কোনোভাবেই সহমত হতে পারছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ফোনালাপের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পড়তে বাধ্য। ট্রাম্পের এই শান্তি পরিকল্পনায় নেতানিয়াহু চরম হতাশ হওয়ায় আমেরিকা ও ইজরায়েলের চিরাচরিত সামরিক ও কূটনৈতিক বোঝাপড়ায় সাময়িক স্থবিরতা আসতে পারে। ইজরায়েল যদি আমেরিকার পরামর্শ উপেক্ষা করে এককভাবে তেহরানে অভিযান বজায় রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনার জন্ম দেবে এবং আমেরিকার তৈরি করা শান্তি চুক্তিকে ভেস্তে দিতে পারে। যদিও এই ফোনালাপ প্রসঙ্গে ওয়াশিংটন বা তেল আভিভের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি।