আরজি করের ডিনার থেকে শেষকৃত্য, প্রমাণ লোপাটের খোঁজে এবার হাইকোর্টের নতুন সিট

আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ‘অভয়া’র ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এবার নতুন মোড়। দীর্ঘ ১ বছর ৭ মাস কেটে গেলেও তদন্তের সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার সিবিআই-এর অধীনে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল বা ‘সিট’ (SIT) গঠনের নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর কীভাবে তথ্যপ্রমাণ নষ্টের বা অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল, তা নিখুঁতভাবে খতিয়ে দেখবে এই নতুন দল।
সিবিআইয়ের শ্লথ গতিতে ক্ষুব্ধ আদালত
এদিনের শুনানিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তের গতি নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। গত বছরের ৭ অক্টোবর ২৪ পাতার প্রাথমিক চার্জশিট দাখিল করার পর থেকে এই দীর্ঘ সময়ে সিবিআই কী কাজ করল, তা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন বিচারপতিরা। যদিও সিবিআই-এর আইনজীবীরা দাবি করেন যে তদন্ত থমকে নেই, এবং ইতিমধ্যেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকা প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জনের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আদালত আর কোনো ঢিলেমি না রেখে সিবিআই-এর যুগ্ম অধিকর্তার (পূর্বাঞ্চল) নেতৃত্বে এই সিট গঠনের নির্দেশ দেয়, যার বাকি দুই সদস্যের নাম আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। আগামী ২৫ জুনের মধ্যে এই বিশেষ দলকে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা
হাইকোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ, ঘটনার নিখুঁত ক্রমপঞ্জি বা টাইমলাইন খতিয়ে দেখতে হবে তদন্তকারীদের। বিশেষ করে, যে সময়ে অভয়া রাতের খাবার খেয়েছিলেন, সেই মুহূর্ত থেকে শুরু করে পরদিন সন্ধ্যায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত প্রতিটি মিনিটের ঘটনাক্রম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে স্ক্যান করবে সিট। অভয়ার বাবা-মা শুরু থেকেই অভিযোগ করে আসছিলেন যে এই নৃশংস অপরাধের পেছনে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত এবং শুরুতেই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা চলেছিল। ইতিপূর্বে মূল অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের জাল এখনও উন্মোচিত হয়নি বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে এই মামলার প্রভাব অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। অভয়ার মা রত্না দেবনাথ সম্প্রতি জলহাটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়ে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও নতুন সিট গঠনের নির্দেশ আগামী দিনে প্রমাণ লোপাটের সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের মুখোশ খুলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে ধামাচাপা পড়া সত্য উদঘাটনের সম্ভাবনা যেমন জোরালো হলো, তেমনই তদন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার ক্ষেত্রে সিবিআই-এর ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে গেল।