শিক্ষক নিয়োগের পর এবার আমলা নিয়োগেও দুর্নীতির ছায়া, বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

শিক্ষক নিয়োগের পর এবার আমলা নিয়োগেও দুর্নীতির ছায়া, বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ

রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তোলপাড় চলছে। এর মধ্যেই এবার সরাসরি আমলা নিয়োগের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ তুলে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেন ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিজেপি বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। ফলতার প্রাক্তন বিডিও শানু বক্সিকে নিয়ে চলা টানাপোড়েনের মাঝেই রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মনের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন তিনি। তাঁর দাবি, শিক্ষক নিয়োগের মতোই তৃণমূল জমানায় পশ্চিমবঙ্গ সিভিল সার্ভিস (ডব্লিউবিসিএস) নিয়োগেও বড়সড় গলদ ও দুর্নীতি হয়েছে।

নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ও বিপুল সম্পত্তি

বিজেপি বিধায়কের দাবি, ২০১৬ সালের পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষার মাধ্যমে যেভাবে আমলা নিয়োগ করা হয়েছিল, তাতে গভীর রহস্য রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, পরীক্ষায় মাত্র ১৯ নম্বর পেয়েও অনেকে বিডিও পদের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে বসেছেন। প্রশান্ত বর্মন কীভাবে সেই পরীক্ষায় পাশ করলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি পঞ্চায়েতের তিন স্তরে বিপুল লুঠপাটের অভিযোগও আনা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। একজন সরকারি আধিকারিক হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তিনি নীলবাতি লাগানো গাড়ি চড়ে ঘোরেন এবং তাঁর বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির উৎস কী, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।

খুনের মামলায় নাম এবং প্রভাব খাটানোর আশঙ্কা

প্রশান্ত বর্মনের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল কালচিনির বিডিও হিসেবে। পরবর্তীতে তিনি রাজগঞ্জের দায়িত্ব সামলান। রাজগঞ্জে থাকাকালীন সল্টলেকের দত্তাবাদের এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী, স্বপন কামিল্যা খুনের মামলায় এই সরকারি আধিকারিকের নাম জড়িয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, কোনও এক অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তির প্রভাবে পরবর্তীতে ওই খুনের মামলার চার্জশিট থেকে তাঁর নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয় এবং তদন্তের স্বার্থে বারবার তদন্তকারী অফিসারদেরও বদলে ফেলা হয়েছিল।

তৎকালীন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের মদতেই এই সমস্ত দুর্নীতি এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে প্রশান্ত বর্মনকে দ্রুত গ্রেফতার করার এবং তাঁর আমলের সমস্ত ফাইলের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাওয়া হচ্ছে। আমলা নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই বিশ্বাসযোগ্যতা সংকট আগামী দিনে প্রশাসনিক স্তরে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *