মধ্যবিত্তের নস্ট্যালজিয়া উসকে নতুন রূপে বাজারে এল হোন্ডা সিটি!

ভারতীয় গাড়ির বাজারে সেডান সেগমেন্টের সংজ্ঞা বদলে দেওয়া হোন্ডা সিটি আবার নতুন রূপে হাজির হয়েছে। ২০০০-এর দশকে যে গাড়িটি দেশের মধ্যবিত্ত ও পেশাদারদের কাছে সাফল্যের প্রতীক এবং স্ট্যাটাস সিম্বল হয়ে উঠেছিল, সেই আবেগকে আরও আধুনিক মোড়কে ফিরিয়ে আনতে ‘হোন্ডা সিটি ফেসলিফ্ট ২০২৬’ লঞ্চ করল হোন্ডা কার্স ইন্ডিয়া। ভারতীয় বাজারে এই নতুন মডেলটির এক্স-শোরুম দাম শুরু হচ্ছে ১১.৯৯ লক্ষ টাকা থেকে। বর্তমান গাড়ি বাজারে যেখানে এসইউভির (SUV) দাপট ক্রমেই বাড়ছে, সেখানে সেডানপ্রেমীদের নস্ট্যালজিয়া ও আধুনিক চাহিদার কথা মাথায় রেখেই হোন্ডার এই নয়া পদক্ষেপ।
নকশায় আধুনিকতার ছোঁয়া ও প্রতিদ্বন্দিতার আভাস
নতুন হোন্ডা সিটির ডিজাইনে বেশ কিছু বড় ও আকর্ষণীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা গাড়িটিকে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্পোর্টি ও প্রিমিয়াম লুক দিয়েছে। এর সামনের অংশে রয়েছে নতুন Bi-LED প্রজেক্টর হেডল্যাম্প, কানেক্টেড LED লাইট বার এবং নতুন গ্রিল ডিজাইন। তবে গাড়ির সামনের এই কানেক্টেড LED লাইট স্ট্রিপ এবং ফ্রন্ট ফেসিয়ার স্টাইলিং নিয়ে ইতিমধ্যেই গাড়ি বিশেষজ্ঞদের একাংশের মধ্যে চর্চা শুরু হয়েছে। নেটমাধ্যমের দাবি, এই ডিজাইনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ড হুন্ডাই ভার্না (Hyundai Verna)-র বেশ মিল রয়েছে। এছাড়া নতুন মডেলটিতে ১৬ ইঞ্চির ডুয়াল-টোন অ্যালয় হুইল, Z-edge LED টেল ল্যাম্প এবং স্পোর্টি বাম্পার যোগ করা হয়েছে, যার ফলে গাড়ির দৈর্ঘ্যও আগের চেয়ে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।
কেবিনে প্রযুক্তির দাপট ও শক্তিশালী হাইব্রিড ইঞ্জিন
গাড়ির ভেতরেও এসেছে একঝাঁক আধুনিক ও প্রিমিয়াম ফিচার। কেবিনে থাকছে ১০.১ ইঞ্চির ফ্লোটিং টাচস্ক্রিন ইনফোটেনমেন্ট সিস্টেম, যা ওয়্যারলেস অ্যাপল কারপ্লে এবং অ্যান্ড্রয়েড অটো সাপোর্ট করে। যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তার জন্য এতে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা, ভেন্টিলেটেড সিট, ওয়্যারলেস চার্জিং, সানরুফ এবং উন্নত ‘হোন্ডা সেন্সিং ADAS’ প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়েছে।
ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে অবশ্য বড় কোনো ওলটপালট করা হয়নি। নির্ভরযোগ্য ১.৫ লিটার i-VTEC পেট্রোল ইঞ্জিনটিই বহাল রাখা হয়েছে, যা ম্যানুয়াল ও সিভিটি (CVT) দুই ধরনের গিয়ারবক্স অপশনেই পাওয়া যাবে। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী যাতায়াতের জন্য থাকছে হাইব্রিড e:HEV ভার্সনও। সংস্থার দাবি, এই হাইব্রিড মডেলটি প্রতি লিটার জ্বালানিতে প্রায় ২৭.২৬ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম। একই দিনে ভারতের বাজারে প্রিমিয়াম ও হাইব্রিড গাড়ির পোর্টফোলিও বাড়াতে হোন্ডা তাদের নতুন হাইব্রিড SUV ‘Honda ZR-V e:HEV’-ও প্রদর্শন করেছে।
বাজার ধরার লড়াই ও সম্ভাব্য প্রভাব
বর্তমানে ভারতের অটোমোবাইল বাজারে গ্রাহকদের ঝোঁক দ্রুত এসইউভির দিকে ঝুঁকছে, যার ফলে বহু সংস্থাই সেডান গাড়ি তৈরি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে হোন্ডা সিটির এই নতুন ফেসলিফ্ট সংস্করণ লঞ্চ করার মূল কারণ হলো বাজারে নিজেদের আধিপত্য ধরে রাখা এবং সেডানপ্রেমী মধ্যবিত্ত গ্রাহকদের আকর্ষণ করা। উন্নত প্রযুক্তি এবং দুর্দান্ত মাইলেজের কারণে গাড়িটি বাজারে অন্যান্য সেডান কারের পাশাপাশি মাঝারি বাজেটের এসইউভিগুলির সঙ্গেও কড়া টক্কর দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বহু ভারতীয় পরিবারের প্রথম বড় গাড়ি কেনার আবেগ ও নস্ট্যালজিয়াকে পুঁজি করে হোন্ডা আবারও প্রিমিয়াম সেডান সেগমেন্টে নিজেদের বিক্রি বাড়াতে সক্ষম হতে পারে।