লখনউয়ের হাসপাতালে চিকিৎসার নামে ছাত্রীকে ধর্ষণ, সিল করে দেওয়া হলো প্রতিষ্ঠান!

উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের বকশি কা তালাব এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার নামে এক ছাত্রীকে চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তেজস হাসপাতাল নামের ওই চিকিৎসা কেন্দ্রে ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনায় ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত চিকিৎসক বিজয় গিরিকে আটক করেছে পুলিশ। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হাসপাতালটি অবিলম্বে সিল করে দেওয়ার পাশাপাশি অভিযুক্তের লাইসেন্স স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক।
চিকিৎসার নামে অপারেশন থিয়েটারে নির্যাতন
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মে অসুস্থতার কারণে ওই ছাত্রীকে তেজস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অভিযোগ, চিকিৎসার অজুহাত দেখিয়ে ডাক্তার বিজয় গিরি রোগীকে একা অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। সেই সময় ছাত্রীর বাবা এবং হাসপাতালের অন্য মহিলা কর্মীদেরও কৌশলে বাইরে বের করে দেওয়া হয়। এরপরই ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ঘুমের ইনজেকশন দিয়ে অবচেতন করা হয় এবং তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয়। ইনজেকশনের প্রভাব কাটার পর ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং দ্রুত পরিবারের সদস্যদের সব জানান। পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ও সম্ভাব্য প্রভাব
ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (নর্থ) টুইঙ্কল জৈন জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত চিকিৎসক বিজয় গিরিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে ঘটনার ভয়াবহতা বিবেচনা করে স্বাস্থ্য প্রশাসন অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। উপ-মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠকের নির্দেশে হাসপাতালটি সিল করার পাশাপাশি অভিযুক্তের আয়ুর্বেদিক ডিগ্রি বাতিল করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তিনি আর কোথাও চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত হতে না পারেন। চিকিৎসকের মতো একটি দায়িত্বশীল পদের আড়ালে এমন অপরাধের ঘটনা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি করেছে, যার প্রভাব হিসেবে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ওপর প্রশাসনিক নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।