হাওড়ায় হকার উচ্ছেদে হাই কোর্টের স্থগিতাদেশ, মিলল আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ!

হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন বঙ্কিম রোডে রেলের হকার উচ্ছেদ অভিযানের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি হীরণময় ভট্টাচার্যের বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী জুন মাসের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত কোনো হকারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা যাবে না। উচ্ছেদের আগে সংশ্লিষ্ট হকারদের অবশ্যই নিজেদের বক্তব্য পেশ করার তথা আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি সুযোগ দিতে হবে। আদালতের এই নির্দেশের ফলে আপাতত বড়সড় স্বস্তি পেলেন বঙ্কিম রোডের কয়েকশো ব্যবসায়ী। এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১০ জুন ধার্য করা হয়েছে।
আইনি বৈধতার লড়াই ও রেলের যুক্তি
আদালতে হকারদের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য যুক্তি দেন যে, এই ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণ আইনি পথ মেনেই ব্যবসা চালাচ্ছেন। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীনস্থ ‘হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ’-কে নিয়মিত ভাড়া দেন এবং তার বৈধ রশিদও তাঁদের কাছে রয়েছে। এমনকি ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স, জিএসটি এবং সার্ভিস ট্যাক্স রেজিস্ট্রেশনও রয়েছে। পাল্টা জবাবে রেলের আইনজীবী কুমারজ্যোতি তিওয়ারি জানান, ‘অমৃত ভারত প্রকল্প’-এর অধীনে হাওড়া স্টেশন ও তার আশেপাশের এলাকা পরিচ্ছন্ন ও যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছিল। তবে রেলের দেওয়া উচ্ছেদ নোটিশে কোনো স্বাক্ষর না থাকায় এবং তা ব্যক্তিগতভাবে না দিয়ে দেওয়ালে সেঁটে দেওয়ায় নোটিশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত।
ভবিষ্যৎ প্রভাব ও আদালতের নির্দেশ
হাই কোর্টের এই রায়ের ফলে রেলের সৌন্দর্য্যায়ন ও পরিচ্ছন্নতা প্রকল্প সাময়িকভাবে থমকে গেল। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, রেল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে হকারদের সঙ্গে বসে শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে, যেখানে হুগলি নদী জলপথ পরিবহণের প্রতিনিধিও উপস্থিত থাকবেন। শুনানির পর রেল কী সিদ্ধান্ত নিল, তা বিস্তারিত রিপোর্ট আকারে কলকাতা হাই কোর্টে জমা দিতে হবে। এই নির্দেশের ফলে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে বা হকারদের পুনর্বাসন ও বিকল্প ব্যবস্থার কথা না ভেবে হুট করে উচ্ছেদ করা যে সম্ভব নয়, সেই বার্তাই স্পষ্ট হলো। ফলে বঙ্কিম রোডের হকারদের উচ্ছেদ ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি শুনানির ফলাফল এবং আদালতের পরবর্তী রায়ের ওপর নির্ভর করছে।