তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুতে নয়া মোড়, শেষমেশ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন স্বামী সমর্থ

তিশা শর্মার রহস্যমৃত্যুতে নয়া মোড়, শেষমেশ আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন স্বামী সমর্থ

প্রাক্তন মিস পুণে তিশা শর্মার চাঞ্চল্যকর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে নয়া মোড় এল। দীর্ঘ ১০ দিন পলাতক থাকার পর জব্বলপুর জেলা আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন তিশার স্বামী পেশায় আইনজীবী সমর্থ সিং। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়ার পরই তিনি নিম্ন আদালতে গিয়ে ধরা দেন। ৩৩ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যার মামলা হিসেবে দেখলেও, ঘটনার গভীরে লুকিয়ে রয়েছে পণের চাপ, প্রমাণ লোপাট এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ।

মেধার অপমৃত্যু ও সম্পর্কের টানাপোড়েন

উচ্চশিক্ষিত তিশা শর্মা বিবিএ ও এমবিএ শেষ করে মুম্বই এবং দিল্লির নামী সংস্থায় কর্পোরেট চাকরি করেছিলেন। এর মাঝেই গ্ল্যামার দুনিয়ায় পা রেখে অর্জন করেন ‘মিস পুণে’র খেতাব, অভিনয় করেন তেলুগু সিনেমাতেও। কর্মজীবনে সফল তিশা ২০২৪ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে আইনজীবী সমর্থের মুখোমুখি হন এবং ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তাঁরা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন ঘটে। অভিযোগ, শ্বশুরবাড়িতে পা রাখার পর থেকেই চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল তিশাকে, যা শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়।

পণের দাবি বনাম পারিবারিক সংঘাত

এই মৃত্যুর পেছনে পণের দাবিতে অত্যাচারের তত্ত্ব জোরালো হয়ে উঠেছে। তিশার বাবা নবনীধি শর্মা আক্ষেপ করে জানিয়েছেন, সামাজিক চাপ ও মধ্যবিত্ত মানসিকতার কারণে মেয়ের উপর চলা নির্যাতন মুখ বুজে সহ্য করে বিয়েটা টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিলেন তাঁরা, যার চড়া মূল্য চোকাতে হলো মেয়ের জীবন দিয়ে। অন্যদিকে, সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তিশার শাশুড়ি গিরিবালা সিং পাল্টা দাবি করেছেন, বিনোদন জগৎ থেকে অর্থ উপার্জনের জন্য তিশার মা-বাবাই জোর করে তাঁকে ওই পেশায় ঠেলে দিয়েছিলেন।

তদন্তের সম্ভাব্য প্রভাব ও আইনি লড়াই

তিশার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে তাঁর পরিবার প্রথমে মৃতদেহ নিতে অস্বীকার করে এবং পুনরায় ময়নাতদন্তের আবেদন জানায়। আদালত দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের দাবিতে সম্মতি দিলেও তিশার শ্বশুরবাড়ি এর তীব্র বিরোধিতা করেছে। স্বামীর এই আত্মসমর্পণের ফলে মামলার তদন্তে নতুন গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রভাবশালী শ্বশুরবাড়ির চাপ কাটিয়ে পুলিশ কীভাবে এই রহস্যের জট খোলে এবং পণের কারণে মৃত্যুর সত্যতা প্রমাণিত হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *