মেঘ না চাইতেই জল, মিসলেনিয়াস পরীক্ষায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ও আবেদনের সময় বাড়াল পিএসসি!

মেঘ না চাইতেই জল, মিসলেনিয়াস পরীক্ষায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা ও আবেদনের সময় বাড়াল পিএসসি!

রাজ্যের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এক বড়সড় সুখবর শোনাল পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC)। ২০২৪ সালের মিসলেনিয়াস সার্ভিসেস রিক্রুটমেন্ট পরীক্ষার নিয়মাবলীতে ব্যাপক রদবদল এনেছে কমিশন। পিএসসির পক্ষ থেকে জারি করা একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এবার থেকে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর পাশাপাশি এক ধাক্কায় বৃদ্ধি করা হয়েছে পরীক্ষার্থীদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমাও। কমিশনের এই জোড়া সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের লক্ষাধিক বেকার যুবক-যুবতীর মধ্যে নতুন করে আশার আলো সঞ্চারিত হয়েছে।

বয়সের গেরো মুক্ত প্রার্থীরা

কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি হিসেব করে চাকরিপ্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে ৪৪ বছর করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৩৯ বছর। অর্থাৎ, সাধারণ বিভাগের চাকরিপ্রার্থীরা এক লপ্তে আরও ৫টি বছর বাড়তি ছাড় পেয়ে গেলেন। তবে সংরক্ষিত আসনের পরীক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম মেনে বয়সের ছাড় যেভাবে বহাল থাকে, তা অপরিবর্তিতই থাকছে। বয়স বাড়ানোর পাশাপাশি আবেদনের দিনক্ষণও আরও কিছুটা প্রসারিত করেছে পিএসসি। নতুন নোটিফিকেশন অনুযায়ী, আগামী ৯ জুন পর্যন্ত অনলাইনে আবেদনপত্র জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা।

কারণ ও সম্ভাব্য প্রভাব

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এ রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বয়সের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর যে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, কমিশনের এই সিদ্ধান্তে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। সরকারি এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিযোগিতার বাজারে বড়সড় প্রভাব পড়তে চলেছে। বিশেষ করে বয়সের গেরোয় আটকে যাঁরা এতদিন ফর্ম ফিলাপ করতে পারছিলেন না, তাঁরা নতুন করে কোমর বেঁধে ময়দানে নামার সুযোগ পেলেন। ফলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বাড়বে এবং মেধার লড়াই আরও তীব্র হবে।

মর্যাদাপূর্ণ পদের হাতছানি

রাজ্যের সরকারি চাকরির দুনিয়ায় ডব্লিউবিপিএসসির এই মিসলেনিয়াস পরীক্ষাটি অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং মর্যাদাপূর্ণ। এর মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে গ্রুপ-বি এবং গ্রুপ-সি পর্যায়ের কর্মী নিয়োগ করা হয়। ব্লক ওয়েলফেয়ার অফিসার (BWO), রেভিনিউ ইন্সপেক্টর (RI), ডিজ়াস্টার ম্যানেজমেন্ট অফিসার (DMO) কিংবা অ্যাসিস্ট্যান্ট চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসারের (ACDO) মতো পদগুলিতে কাজের সুযোগ মেলে এই পরীক্ষার হাত ধরেই।

গোটা নিয়োগ প্রক্রিয়াটি মূলত তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়— প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, লিখিত মেইন পরীক্ষা এবং পার্সোনালিটি টেস্ট বা ইন্টারভিউ। মেইন পরীক্ষা এবং ইন্টারভিউয়ের প্রাপ্ত নম্বরের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত মেধাতালিকা তৈরি করে পিএসসি। নতুন বিজ্ঞপ্তির পর এখন পরীক্ষার প্রস্তুতিতে নতুন উদ্যমে জোর দিচ্ছেন প্রার্থীরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *