বিরোধীদের বাদ দিয়ে পুরসভায় সভা, মেয়র ফিরহাদের বিরুদ্ধে অনাস্থার হুঁশিয়ারি সজলের

কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন স্থগিত হওয়া এবং শাসকদলের একক সভা পরিচালনাকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত মেয়র পারিষদের বৈঠক এবং মাসিক অধিবেশন স্থগিতের নির্দেশের পর, পুরসভা চত্বরে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি বিশেষ সভা আয়োজিত হয়। এই সভাকে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ বলে দাবি করে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিজেপি কাউন্সিলর ও বিধায়ক সজল ঘোষ।
অধিবেশন বাতিলের পর পাল্টা সভা ও বিতর্ক
শুক্রবার কলকাতা পুরসভার মাসিক অধিবেশন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করা হয়। এর পরেই পুরসভা চত্বরে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অধিবেশন কক্ষ তালাবন্ধ থাকায় শাসকদলের কাউন্সিলররা বাইরেই একটি সভার আয়োজন করেন। পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের ঘরের বাইরে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত ছিলেন খোদ মেয়র ফিরহাদ হাকিম এবং চেয়ারপার্সন মালা রায়। বিরোধীদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে কেন এই ধরনের সভার আয়োজন করা হলো, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির।
আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক প্রভাব
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরসভার অন্দরে আইনি ও প্রশাসনিক নিয়মের লঙ্ঘন হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। সজল ঘোষের দাবি, পুরসভার কমিশনারের কর্তৃত্ব ছাড়া এবং বিরোধী কাউন্সিলরদের না জানিয়ে এভাবে কোনো সভা করা যায় না। পুরসভাকে তৃণমূলের ‘পার্টি অফিস’ বা মেয়রের ‘বৈঠকখানা’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি কটাক্ষ করেন। এই ঘটনার জেরে আগামী দিনে পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, মেয়রের কাছ থেকে সন্তোষজনক উত্তর না মেলা পর্যন্ত আগামী দিনে পুরসভার কোনো অধিবেশন বা হাউস চলতে দেওয়া হবে না, যা পুর-পরিষেবামূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বড়সড় অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে।