কেরলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হলেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব! কংগ্রেসের ‘ভণ্ডামি’ নিয়ে সুর চড়াল বিজেপি

কেরলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক হলেন মুখ্যমন্ত্রীর সচিব! কংগ্রেসের ‘ভণ্ডামি’ নিয়ে সুর চড়াল বিজেপি

নিজস্ব প্রতিনিধি, তিরুবনন্তপুরম: কেরলে বিধানসভা নির্বাচন মেটার পর ক্ষমতা এখন কংগ্রেসের দখলে। কিন্তু গদিতে বসেই এক আমলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের মুখে পড়ল হাত শিবির। রাজ্যের বিদায়ী মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) রতন ইউ কেলকারকে সরাসরি নতুন মুখ্যমন্ত্রী ভি ডি সতীশনের সচিব হিসেবে নিয়োগ করেছে কংগ্রেস সরকার। শনিবার এই নির্দেশিকা সামনে আসতেই ময়দানে নেমেছে বিজেপি ও বামেরা। পশ্চিমবঙ্গের একটি পুরনো ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকে ‘রাজনৈতিক ভণ্ডামি’র আয়না দেখাচ্ছে বিরোধী শিবির।

পশ্চিমবঙ্গের উদাহরণ টেনে রাহুল গান্ধীকে তোপ বিজেপির

এই নিয়োগের খবর জানাজানি হতেই সুর চড়িয়েছে বিজেপি। কেরলের বিজেপি নেতা কে সুরেন্দ্রন পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক পালাবদলের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন। উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের তৎকালীন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে রাজ্যের মুখ্যসচিব পদে নিয়োগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সময়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘যত বড়ো চুরি, তত বড়ো পুরস্কার’।

রাহুল গান্ধীর সেই মন্তব্যকেই এবার হাতিয়ার করেছে পদ্ম শিবির। কে সুরেন্দ্রন কটাক্ষ করে বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি এই কাজ করলে তা হয়ে যায় ভোটচুরির পুরস্কার। আর কেরলে কংগ্রেস একই কাজ করলে তা হয়ে যায় গণতন্ত্রের সৌন্দর্য! আসলে রাহুল গান্ধী এবং তাঁর সঙ্গীরা এই ধরনের দ্বিচারিতা ও রাজনৈতিক ভণ্ডামিতেই অভ্যস্ত।”

নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন সিপিএমের

কংগ্রেসের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সমানভাবে সরব হয়েছে বিদায়ী সিপিএম শিবিরও। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা পি রাজীব এই নিয়োগকে অত্যন্ত গুরুতর বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, “এই ধরনের পক্ষপাতমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়াই আসলে গোটা নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে জনমানসে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। এই বিষয়ে অবিলম্বে কংগ্রেসকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।”

সব অভিযোগ উড়িয়ে সাফাই কংগ্রেসের

বিরোধী দলগুলির এই যৌথ আক্রমণের মুখে অবশ্য পিছু হটতে নারাজ কংগ্রেস নেতৃত্ব। দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই নিয়োগের পেছনে কোনো রাজনৈতিক অভিসন্ধি বা ‘পুরস্কার’ দেওয়ার বিষয় নেই। একটি নির্বাচিত সরকারের কোন আমলাকে কোন পদে বসানো হবে, তা সম্পূর্ণভাবে সেই সরকারের বিশেষ অধিকারের (Prerogative) মধ্যে পড়ে। তবে কংগ্রেস সাফাই দিলেও, লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী আবহে এই আমলা-রাজনীতি দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যে নতুন করে শাসক-বিরোধী সংঘাতের পারদ চড়িয়ে দিল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *