শান্তিনিকেতনে আড়াই ঘণ্টা থমকে গণদেবতা এক্সপ্রেস, তীব্র গরমে ক্ষোভ উগরে দিলেন যাত্রীরা

রবিবার ছুটির দিনে চরম দুর্ভোগের সাক্ষী হলেন গণদেবতা এক্সপ্রেসের যাত্রীরা। নির্ধারিত সময়ে হাওড়া স্টেশন থেকে আজিমগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও মাঝপথে যান্ত্রিক গোলযোগের জেরে আড়াই ঘণ্টারও বেশি সময় শান্তিনিকেতন স্টেশনে আটকে রইল ডাউন ট্রেনটি। মে মাসের চড়া রোদে এবং তীব্র গরমে ট্রেনের ভেতরে দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
মাঝপথে বিকল ইঞ্জিন
রেল সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনটি আহমেদপুরের কাছাকাছি পৌঁছলে চালকেরা প্রথম ইঞ্জিনের সমস্যাটি অনুধাবন করেন। বিপত্তির কথা টের পেয়েই তারা দ্রুত রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে অত্যন্ত ধীর গতিতে ট্রেনটিকে কোনও রকমে ফিরিয়ে আনা হয় শান্তিনিকেতন স্টেশনে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৮টা বেজে ১২ মিনিট। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ট্রেনটি সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকে। ইঞ্জিনে বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়ায় সেটি আর সচল করা সম্ভব হয়নি।
ভোগান্তির নেপথ্যে রেলের গাফিলতির অভিযোগ
এই ঘটনার জেরে ট্রেনের নিত্যযাত্রী থেকে শুরু করে দূরপাল্লার সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হন। ক্ষুব্ধ যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনটি হাওড়া থেকে ছাড়ার আগে যদি সঠিক উপায়ে রক্ষণাবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হতো, তবে মাঝপথে এই বিপর্যয় ঘটত না। রেলের এই উদাসীনতার কারণেই গরমে প্রবীণ ও শিশুরা সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েন।
পরবর্তীতে রেল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে পরিস্থিতি সামাল দিতে বিকল্প ইঞ্জিনের ব্যবস্থা করা হয়। নতুন ইঞ্জিন এসে পৌঁছানোর পর পুনরায় ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। সাময়িক এই বিভ্রাট ও যাত্রীদের হয়রানির জন্য রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করা হয়েছে। তবে এই ঘটনা রেলের দূরপাল্লার ট্রেনের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মান নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিল।