তোলাবাজির টাকা না পেয়ে শালিমার স্টেশনে রক্তাক্ত তাণ্ডব দুষ্কৃতীদের, রণক্ষেত্র হাওড়া

হাওড়ার শালিমার রেল স্টেশনে রবিবার সন্ধ্যায় পার্কিং ফি আদায়কে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল। পার্কিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট টাকা না পেয়ে একদল সশস্ত্র দুষ্কৃতী স্টেশন চত্বরে ব্যাপক তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। এই হামলায় পার্কিংয়ের এক কর্মীসহ মোট দুই ব্যক্তি ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তাঁরা চিকিৎসাধীন।
পঞ্চাশ হাজার টাকার দাবি ও আকস্মিক হামলা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সন্ধেবেলা শালিমার স্টেশনের পার্কিং এলাকায় বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী এসে চড়াও হয়। আহত পার্কিং কর্মীর অভিযোগ অনুযায়ী, দুষ্কৃতীরা আচমকাই তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা তোলা দাবি করে। সেই তোলাবাজির টাকা দিতে অস্বীকার করায় পরিস্থিতি মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বচসা চলাকালীনই দুষ্কৃতীরা দলবল নিয়ে ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে অতর্কিতে হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কোপে রক্তাক্ত হন দুই কর্মী। এই ঘটনার জেরে স্টেশন চত্বরের সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে এজেসি বোস বি গার্ডেন থানার পুলিশ। ইতিমধ্যেই পুলিশ ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
কড়া নির্দেশিকার মাঝেও বহাল তোলাবাজি
রাজ্যে অবৈধ পার্কিং এবং পার্কিংয়ের নামে তোলাবাজি বন্ধ করতে সম্প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে সরকার। পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনোভাবেই পার্কিং সংক্রান্ত জালিয়াতি বরদাস্ত করা হবে না। অবৈধ পার্কিং বন্ধ করা, রাস্তার দু’পাশে গাড়ি রাখা নিষিদ্ধ করা এবং রাজ্যজুড়ে অভিন্ন রেট চার্ট চালুর মাধ্যমে জালিয়াতি রোখার নির্দেশিকাও জারি হয়েছে। এমনকি ভুয়ো স্লিপ ছাপিয়ে রাজস্ব চুরির সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের এমন কড়া মনোভাব ও নির্দেশিকার পরেও খোদ রেল স্টেশনের মতো জনবহুল এলাকায় এই ধরনের সশস্ত্র হামলা ও তোলাবাজির ঘটনা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, আগের প্রশাসনের আমল থেকে চলে আসা এই বেআইনি সিন্ডিকেট রাজ রাতারাতি বন্ধ না হওয়ার কারণেই দুষ্কৃতীরা এখনও এতটা বেপরোয়া।