কর্নাটকে কি এবার সিদ্দারামাইয়া যুগের অবসান ঘটে ডিকে শিবকুমারের হাতে উঠছে ব্যাটন?

২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর থেকেই কর্নাটক কংগ্রেসের অন্দরে যে সুপ্ত টানাপোড়েন চলছিল, তা এবার চূড়ান্ত রূপ নিতে চলেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে রাজ্য়ের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে চলেছেন বর্ষীয়ান নেতা সিদ্দারামাইয়া। সব ঠিক থাকলে আজ বুধবার বা আগামীকাল বৃহস্পতিবারই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। আর তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে চলেছেন রাজ্যের বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী তথা কর্নাটক কংগ্রেসের ‘ক্রাইসিস ম্যানেজার’ ডিকে শিবকুমার। দীর্ঘদিনের ক্ষমতা ভাগাভাগির সূত্র মেনেই এই রদবদল হতে চলেছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন।
ক্ষমতার ভারসাম্য ও আড়াই বছরের সূত্র
২০২৩ সালে কর্নাটকে জয়ের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে চরম দ্বিধায় ছিল কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। একদিকে ছিলেন দলের জয়ের নেপথ্য কারিগর ডিকে শিবকুমার, অন্যদিকে ওবিসি ‘আহিন্দ্রা’ জনগোষ্ঠীর শক্তিশালী জনভিত্তি ও অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে থাকা সিদ্দারামাইয়া। শেষ পর্যন্ত সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী করা হলেও তখনই অলিখিত একটি ‘আড়াই বছরের সূত্র’ নিয়ে গুঞ্জন উঠেছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লোকসভা নির্বাচন পার হতেই সেই পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী এবার ডিকে শিবকুমারকে কুর্সি ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সিদ্দারামাইয়াকে সহজে রাজি করাতে অবশ্য দিল্লির রাজনীতিতে বড় পদের টোপ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, তাঁকে রাজ্যসভার সাংসদ পদ এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্ব।
পরিবর্তনের রূপরেখা ও সম্ভাব্য প্রভাব
এই রদবদলের আবহেই মঙ্গলবার দিল্লিতে প্রায় ছয় ঘণ্টার একটি ম্যারাথন বৈঠক করেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতারা। যদিও দলগতভাবে এটিকে রাজ্যসভার শূন্যপদ পূরণের বৈঠক বলে দাবি করা হয়েছে, তবে আসল উদ্দেশ্য যে ক্ষমতার হস্তান্তর, তা স্পষ্ট। বৃহস্পতিবার সকালে নিজের বাসভবনে সমস্ত মন্ত্রীদের প্রাতঃরাশ বৈঠকে ডেকেছেন সিদ্দারামাইয়া, যেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানাতে পারেন। পরিস্থিতি তদারকি করতে ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরু পৌঁছাচ্ছেন কর্নাটকের কংগ্রেস ইন-চার্জ রণদীপ সূরজেওয়ালা।
এই পরিবর্তনের ফলে কর্নাটকের রাজ্য রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। সিদ্দারামাইয়ার মতো জননেতাকে সরিয়ে শিবকুমারকে দায়িত্বে আনলে ওবিসি ও দলিত ভোটব্যাংকে তার কী প্রতিক্রিয়া হয়, সেটিই এখন কংগ্রেসের বড় চিন্তার বিষয়। তবে শিবকুমারের সাংগঠনিক দক্ষতার ওপর ভর করে আগামী দিনে দক্ষিণের এই রাজ্যে দল নিজেদের রাশ কতটা শক্ত রাখতে পারে, তার ওপরেই নির্ভর করছে সরকারের স্থায়িত্ব। সব পরিকল্পনা মাফিক চললে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই কর্নাটকের মসনদে নতুন মুখের অভিষেক হতে চলেছে।