চকচকে আপেলেই লুকিয়ে বিষাক্ত মোমের ফাঁদ, চেনার সহজ উপায় জেনে নিন

বাজার থেকে ফল কেনার সময় লাল টকটকে আর উজ্জ্বল চকচকে আপেল দেখে আমরা সহজেই আকৃষ্ট হই। তবে ফলের এই বাহ্যিক সৌন্দর্য অনেক সময়ই কৃত্রিম এবং বিপজ্জনক হতে পারে। দীর্ঘ সময় সতেজ ও আকর্ষণীয় রাখার জন্য অসাধু ব্যবসায়ীরা প্রায়শই আপেলের গায়ে ক্ষতিকারক রাসায়নিক ও কৃত্রিম মোমের প্রলেপ ব্যবহার করছেন। সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে প্রথম নজরে এই পার্থক্য বোঝা কঠিন হলেও, সামান্য কিছু কৌশল অবলম্বন করলেই বাড়িতে এই বিষাক্ত আস্তরণ শনাক্ত করা সম্ভব।
মোমের প্রলেপ চেনার ঘরোয়া পদ্ধতি
কৃত্রিম মোম বা কেমিক্যালের এই ক্ষতিকারক প্রলেপ চেনার সবচেয়ে সহজ উপায় হল আপেলের খোসায় আলতো করে আঁচড় কাটা। একটি পরিষ্কার ছুরি বা ব্লেড দিয়ে আপেলের গায়ে হালকা টান দিলে যদি সাদা গুঁড়োর মতো অংশ উঠে আসে, তবে বুঝতে হবে এতে মোমের প্রলেপ রয়েছে। এছাড়া হাতের তালুতে আপেলটি নিয়ে কিছুক্ষণ ঘষলে যদি হাতে সাদাটে, আঠালো ভাব অনুভূত হয়, তবে তা রাসায়নিকের উপস্থিতির প্রমাণ দেয়। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আপেলে এমন কোনো আস্তরণ থাকে না। ঈষদুষ্ণ গরম জল ব্যবহার করেও এটি পরীক্ষা করা যায়। একটি পাত্রে গরম জল নিয়ে আপেলগুলি কিছুক্ষণ ডুবিয়ে রাখলে মোম গলে জলের ওপর ভাসতে শুরু করে।
সচেতনতা ও সুরক্ষার উপায়
কৃত্রিমভাবে চকচকে করা আপেল চেনার আরেকটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হল ফলের সুবাস। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আপেলের একটি মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ থাকে, যা মোমের প্রলেপ থাকা ফলে পাওয়া যায় না। রাসায়নিকের কারণে এগুলো থেকে অনেক সময় ওষুধের মতো গন্ধ বের হয়। এই বিষাক্ত উপাদান থেকে মুক্ত থাকতে বেকিং সোডা ও লেবুর রসের মিশ্রণ অথবা অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মেশানো জলে ফল ধুয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে জনস্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকারক প্রভাব এড়াতে সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হল আপেলের খোসা সম্পূর্ণ ছাড়িয়ে খাওয়া। একটু বাড়তি সচেতনতাই পরিবারকে এই নীরব বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা করতে পারে।