চোপড়ায় বিজেপির গৃহযুদ্ধ, তৃণমূলের কার্যালয় দখল ঘিরে রণক্ষেত্র কাঁচাকালী বাজার

উত্তর দিনাজপুরের চোপড়ার মাঝিয়ালি এলাকায় বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই রাজনৈতিক পারদ চড়ছিল। এবার সেই রাজনৈতিক উত্তেজনা এক ভিন্ন মাত্রা নিল। তৃণমূলের একদা বন্ধ হয়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয় দখল করে তা গেরুয়া রঙে রাঙানোকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিল মাঝিয়ালির কাঁচাকালী বাজার এলাকা। তবে এই লড়াই কোনো বিরোধী দলের সঙ্গে নয়, খোদ বিজেপির নিজেদের অন্দরেই। দলীয় কার্যালয়ের দখলদারি ঘিরে প্রকাশ্যেই চলে এলো বিজেপির আদি ও নব্য কোন্দল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার মাঝিয়ালির কাঁচাকালী বাজার এলাকায় এক সময়ের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রাক্তন কার্যালয়কে কেন্দ্র করে তুলকালাম বেঁধে যায়। একটা সময় পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে এই কার্যালয়টিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছিল। বুধবার বিজেপির ২ নম্বর মন্ডল সভাপতি নিত্য পালের নেতৃত্বে দলের একাংশ কর্মী-সমর্থক ওই কার্যালয়টি গেরুয়া রঙে রাঙাতে উদ্যত হন এবং সেখানে বিজেপির পতাকা লাগিয়ে দেন। কিন্তু দলীয় কর্মীদের এই কাজে বাধা দিয়ে দাঁড়ায় বিজেপিরই অন্য একটি গোষ্ঠী। কার্যালয় দখল ও রং করাকে কেন্দ্র করে দলের দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বচসা ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ঘটনাস্থলে দ্রুত পৌঁছায় পুলিশ বাহিনী। তাদের হস্তক্ষেপেই শেষমেশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কোন্দলের কারণ ও শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশ
বিজেপির এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের নেপথ্যে রয়েছে দলীয় নীতি ও স্থানীয় স্বার্থের সংঘাত। বিজেপির প্রাক্তন মন্ডল সভাপতি বরুন সিংহ নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া নির্দেশ রয়েছে যে, কোনও অবস্থাতেই বিরোধীদের কার্যালয় দখল করা যাবে না। তাছাড়া ওই বিতর্কিত জায়গাটি স্থানীয় একটি পুজো কমিটির। এলাকার মানুষ এবং দলের একটা বড় অংশ চাইছেন, ওখানে নতুন করে কোনও রাজনৈতিক কার্যালয় না বানিয়ে জায়গাটি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করা হোক, যাতে পুজো কমিটি সেটি ব্যবহার করতে পারে। তবে এই দলীয় কোন্দল ও অভিযোগ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত মন্ডল সভাপতি নিত্য পাল কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
তৃণমূলের অবস্থান ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাব
ভোট পরবর্তী হিংসার জেরে এই কার্যালয়টির দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল বলে শাসক শিবিরের দাবি। গোটা বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি প্রীতিরঞ্জন ঘোষ জানান, কার্যালয়টি বন্ধ হওয়ার পর থেকে তাদের কর্মীরা আর ওখানে যাননি। এখন সেখানে নতুন করে ঠিক কী ঘটেছে, তা তারা খোঁজ নিয়ে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে এলাকায় বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতা ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমভাবে প্রকাশ্যে চলে এলো। একদিকে দলীয় নির্দেশ অমান্য করা এবং অন্যদিকে আদি ও নব্য কোন্দলের জেরে চোপড়াতে গেরুয়া শিবিরের রাজনৈতিক রাশ আলগা হতে পারে। একই সঙ্গে, পুজো কমিটির জায়গা রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের চেষ্টা স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যেও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে, যা আগামী দিনে এই এলাকায় বিজেপির জনসমর্থনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার আশঙ্কা তৈরি করেছে।