অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বেরোতেই জেরক্স দোকানে উপচে পড়া ভিড়, দারুণ লক্ষ্মীলাভে হাসছেন ব্যবসায়ীরা!

অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বেরোতেই জেরক্স দোকানে উপচে পড়া ভিড়, দারুণ লক্ষ্মীলাভে হাসছেন ব্যবসায়ীরা!

রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল বহু প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’। গতকাল বুধবার এই প্রকল্পের আবেদনপত্র বা ফর্ম প্রকাশিত হতেই রাজ্যজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মহিলাদের স্বাবলম্বী করতে মাসে তিন হাজার টাকা আর্থিক ভাতার এই ঘোষণায় যেমন সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে, তেমনই এর হাত ধরে আচমকা ব্যবসায়ের বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে স্থানীয় জেরক্স ও প্রিন্ট আউটের দোকানগুলোতে। এক ধাক্কায় বিক্রিবাট্টা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় মুখে হাসি ফুটেছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের।

১২ পাতার ফর্ম ঘিরে তুমুল ব্যস্ততা

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের একটি ১২ পাতার দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করতে হবে। আগে যারা ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তারাও এই নতুন যোজনার আওতাভুক্ত হবেন। ফলে পুরনো ও নতুন—উভয় শ্রেণির আবেদনকারীদেরই এই ফর্ম তুলতে হচ্ছে। ১২ পাতার ফর্ম প্রিন্ট বা জেরক্স করতে সাধারণ মানুষের পাতা প্রতি খরচ হচ্ছে ১২ টাকা থেকে শুরু করে ৬০ টাকা পর্যন্ত। অনেক পরিবারে একাধিক মহিলা সদস্য থাকায় এই খরচের অঙ্ক সহজেই ১০০ থেকে ২০০ টাকা পার করে যাচ্ছে। ভুল এড়াতে অনেকেই আবার বাড়তি কপি করিয়ে রাখছেন, যার সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে জেরক্স দোকানগুলোর ক্যাশবাক্সে।

আর্থিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি

সাধারণ সময়ে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের ওপর নির্ভরশীল এই ছোট দোকানগুলোতে অন্নপূর্ণা যোজনার জেরে এখন সকাল থেকেই তিল ধারণের জায়গা নেই। ব্যবসায়ীদের মতে, আগামী অন্তত এক মাস এই ভিড় বজায় থাকবে, যা তাদের ঝিমিয়ে পড়া ব্যবসায় বড়সড় আর্থিক অক্সিজেন জোগাবে। এর আগে লক্ষ্মীর ভান্ডার, কন্যাশ্রী বা যুবশ্রীর মতো বড় সরকারি প্রকল্পগুলোর সময়েও একই ধরনের ব্যবসায়িক জোয়ার দেখা গিয়েছিল। দীর্ঘ ১২ পাতার ফর্মে একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের পকেটের ওপর সাময়িক চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে তেমনই এই বিপুল চাহিদার জেরে গ্রামীণ ও শহরতলীর ক্ষুদ্র মুদ্রণ ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক অবস্থার দ্রুত উন্নতি ঘটছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *