হাইকোর্টে জামিন খারিজের পরেই সিবিআইয়ের জালে ত্বিষার শাশুড়ি গিরিবালা সিং

পুত্রবধূ ত্বিষা শর্মা মৃত্যু মামলায় অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে আগাম জামিন খারিজ হওয়ার পরদিনই সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তথা মৃতার শাশুড়ি গিরিবালা সিং। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে বুধবার গভীর রাতে হাইকোর্ট তার জামিনের নির্দেশ বাতিল করে দিয়েছিল। এই মামলার অন্য এক অভিযুক্ত তথা গিরিবালার ছেলে সমর্থ সিং ইতিমধ্যেই সিবিআই হেফাজতে রয়েছেন।
আইনি জটিলতা ও হাইকোর্টের কড়া অবস্থান
গত ১২ মে ত্বিষা শর্মার রহস্যমৃত্যুর পর ১৫ মে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। ঘটনার দিনই ভোপালের একটি নিম্ন আদালত প্রভাবশালী এই অবসরপ্রাপ্ত বিচারককে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিয়ে দিয়েছিল। নিম্ন আদালতের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে মামলা গড়ায় হাইকোর্টে। দীর্ঘ শুনানির পর হাইকোর্টের বিচারপতি দেবনারায়ণ মিশ্র নিম্ন আদালতের দেওয়া জামিনের আদেশটি পুরোপুরি বাতিল করে দেন। আদালত স্পষ্ট জানায়, ভোপালের দশম অতিরিক্ত দায়রা বিচারক অপরাধের গুরুত্ব ও প্রমাণাদি সঠিকভাবে খতিয়ে না দেখেই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং যৌতুক প্রতিরোধ আইনের অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধের অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করেছিলেন, যা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।
তদন্তে অসহযোগিতা ও পরবর্তী প্রভাব
সিবিআই সূত্রে খবর, তদন্ত প্রক্রিয়ায় গিরিবালা সিং ক্রমাগত অসহযোগিতা করে যাচ্ছিলেন এবং মামলাটি ভিন্ন খাতে ঘোরানোর চেষ্টা করছিলেন। হাইকোর্টও তার রায়ে তদন্তে অসহযোগিতা, অপরাধের অত্যন্ত গুরুতর প্রকৃতি এবং প্রভাব খাটানোর চেষ্টার মতো বিষয়গুলো উল্লেখ করেছে। প্রাক্তন এই বিচারকের গ্রেফতারির ফলে ত্বিষা শর্মা মৃত্যু মামলার তদন্ত আরও গতি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। শাশুড়ি ও স্বামী দুজনেই এখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের হেফাজতে থাকায় এই মৃত্যুর নেপথ্যে থাকা আসল কারণ এবং যৌতুকের দাবিতে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের প্রমাণাদি দ্রুত সামনে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।