বেজিং এবং ইসলামাবাদের দাপট রুখতে প্রস্তুত ভারত, সেনার পুরনো টি-৭২ ট্যাঙ্ক এবার আরও শক্তিশালী!

দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র চিন ও পাকিস্তানের যৌথ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নিজেদের সামরিক শক্তি আরও জোরদার করছে ভারতীয় সেনা। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চরম বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবার সেনাবাহিনীর পুরনো ও বিশ্বস্ত টি-৭২ ট্যাঙ্কগুলিকে ঢেলে সাজানোর মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের পরেও যাতে এই সাঁজোয়া যানগুলি সমভাবে কার্যকর ও শক্তিশালী থাকে, মূলত সেই লক্ষ্যেই এই আধুনিকীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
১৯৭৮ সালে প্রথমবার ভারতীয় সেনার ভাঁড়ারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল টি-৭২ ট্যাঙ্ক। গত শতকের সাতের দশকে যখন এই সাঁজোয়া যুদ্ধযান ভারতের হাতে আসে, তখন এটি ছিল বিশ্বের অন্যতম সেরা ও উন্নত ট্যাঙ্ক। এর শক্তিশালী ১২৫ মিমি কামান, উন্নত ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং নিখুঁত নকশা শত্রুপক্ষকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিল। সেই সময়ে চিরশত্রু পাকিস্তান তাদের পুরনো প্যাটন ট্যাঙ্ক বাদ দিয়ে চিনের তৈরি টি-৫৯, টি-৬৯ ও টি-৮৫ এবং পরবর্তীতে ইউক্রেন থেকে প্রায় ৩০০টি টি-৮০ ট্যাঙ্ক সংগ্রহ করলেও ভারতের টি-৭২ তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছিল।
প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও টি-৯০ ট্যাঙ্কের আগমন
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের সমীকরণ বদলেছে। ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধে উন্নত থার্মাল ইমেজার, নাইট ভিশন এবং অত্যাধুনিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেমের অধিকারী পশ্চিমি ট্যাঙ্কগুলির সামনে টি-৭২ ট্যাঙ্কের কিছু সীমাবদ্ধতা প্রকাশ পায়। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় সেনা নিজেদের রণকৌশল আরও আধুনিক করতে ২০০১ সাল থেকে রাশিয়ার তৈরি অত্যাধুনিক টি-৯০ ট্যাঙ্ক অন্তর্ভুক্ত করতে শুরু করে। সম্প্রতি তামিলনাড়ুর আভাডিতে অবস্থিত আর্মার্ড ভেহিকলস কর্পোরেশন লিমিটেড সেনাকে তাদের এক হাজারতম টি-৯০ ট্যাঙ্কটি সরবরাহ করেছে।
প্রজেক্ট রাইনো এবং ভবিষ্যৎ প্রভাব
পুরনো টি-৭২ ট্যাঙ্কগুলিকে পুরোপুরি বাতিল না করে সেগুলির কার্যক্ষমতা বহু গুণ বাড়িয়ে তুলতে সেনা এখন ‘প্রজেক্ট রাইনো’ শুরু করেছে। এই প্রকল্পের অধীনে ট্যাঙ্কগুলিতে বসানো হচ্ছে নতুন ও শক্তিশালী ইঞ্জিন, আধুনিক ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম এবং সর্বাধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ট্যাঙ্কগুলির আয়ু এবং আক্রমণাত্মক ক্ষমতা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাবে।
ভবিষ্যতে এই সাঁজোয়া যানগুলিকে চালকবিহীন যুদ্ধ প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করার পরিকল্পনাও রয়েছে সেনাবাহিনীর। ভারতীয় সেনার বিশ্বাস, এই আধুনিকীকরণের ফলে টি-৭২ ট্যাঙ্কগুলি আগামী বহু বছর ধরে সীমান্তে ভারতের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে সক্ষম হবে এবং সেনাবাহিনীতে সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির ‘ফিউচার রেডি কমব্যাট ভেহিকলস’ অন্তর্ভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের প্রতিরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।