তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে সিআইডির হানা, নেপথ্যে সই বিতর্ক!

চৌরঙ্গির পাঁচবারের তৃণমূল বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতে বৃহস্পতিবার আচমকাই হাজির হলেন রাজ্য পুলিশের সিআইডি গোয়েন্দারা। বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির দায়ের করা একটি অভিযোগের ভিত্তিতেই এদিন দুপুরে বিধায়কের খোঁজে যায় সিআইডি-র একটি বিশেষ দল। বিকেলে বিধায়ক বাড়ি ফিরলে তাঁর বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়ার ভিডিওগ্রাফি করা হয়। গোয়েন্দা দলে হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বিতর্কের সূত্রপাত ও সিআইডি তদন্ত
ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার একটি সইকে কেন্দ্র করে। গত ৬ মে বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি দলীয় বৈঠক চলাকালীন একটি নির্দিষ্ট ফর্মে সই করেছিলেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ ওঠে, সইটি আদৌ তাঁর কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। এই বিষয়ে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে সিআইডির হাতে স্থানান্তরিত হয়। তদন্তের স্বার্থে এদিন সিআইডি আধিকারিকরা বিধায়কের প্যান কার্ড এবং অন্যান্য নথিতে থাকা স্বাক্ষরের নমুনাও খতিয়ে দেখেন।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
এই আকস্মিক অভিযানে তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ফর্মে তিনি সইয়ের বদলে ক্যাপিটাল লেটারে নিজের নাম লিখেছিলেন এবং সেটি তাঁরই হাতের লেখা। ২০০১ সাল থেকে বিধায়ক পদে থাকা সত্ত্বেও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি তাঁকে আগে হতে হয়নি বলে এটি অত্যন্ত ‘শকিং’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, চৌরঙ্গির পরাজিত বিজেপি প্রার্থী সন্তোষ পাঠক এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিধায়ক ও তাঁর পরিবারের দিকে দুর্নীতির আঙুল তুলেছেন। তবে তৃণমূলের অন্দরের একাংশের মতে, সইয়ের মতো একটি সাধারণ বিষয়কে কেন্দ্র করে বিধায়ককে অহেতুক হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে, যা আগামী দিনে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়াতে পারে।