ডিজিটাল খোদাইয়ে বদলে যাবে বাংলার খতিয়ান, ১ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে ঐতিহাসিক জনগণনা

দীর্ঘ দেড় দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে জনসংখ্যা গণনার কাজ। আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্য জুড়ে এই সেন্সাস প্রক্রিয়া শুরু হবে, যা চলবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত। শুক্রবার নবান্নে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর এই মেগা প্রশাসনিক অভিযানের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবারের জনগণনার সবচেয়ে বড় চমক হলো, রাজ্যের ইতিহাসে এই প্রথমবার সম্পূর্ণ ডিজিটাল এবং অনলাইন পদ্ধতিতে নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
ঘরে বসেই তথ্য দেওয়ার অভিনব সুযোগ
প্রযুক্তির মেলবন্ধনে আমজনতার সুবিধার কথা মাথায় রেখে এবার ‘সেলফ এনুমারেশন’ বা স্ব-গণনার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর ফলে ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে সাধারণ মানুষ চাইলে নিজেরাই অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের যাবতীয় তথ্য সরকারি পোর্টালে নথিভুক্ত করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য রাজ্য সরকারের তরফে ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ ওয়েবসাইট (www.westbengal.census.gov.in) চালু করা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মন থেকে যাবতীয় বিভ্রান্তি ও সংশয় দূর করতে এবং সেন্সাস সংক্রান্ত যে কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে একটি টোল-ফ্রি ও ল্যান্ডলাইন নম্বর (১৮৫৫ এবং ০৩৩-২৩৩৫ ৯৫০৩) চালু করেছে নবান্ন।
জনবিন্যাসের পরিবর্তন ও সম্ভাব্য প্রশাসনিক প্রভাব
রাজ্যে শেষবার জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। দীর্ঘ দেড় দশক পর এই উদ্যোগের কারণ হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী আগের সরকারের গাফিলতি এবং অবাধ অনুপ্রবেশের ফলে রাজ্যের জনবিন্যাস বা ডেমোগ্রাফির মারাত্মক পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। এই ডিজিটাল খতিয়ানের মাধ্যমে রাজ্যের প্রকৃত জনসংখ্যা এবং নাগরিকদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার সঠিক চিত্র উঠে আসবে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সরকারের পক্ষে ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা গ্রহণ, সামাজিক প্রকল্পের রূপরেখা তৈরি এবং সম্পদের সঠিক বণ্টন করা অনেক সহজ হবে। এটি কোনো রাজনৈতিক বা ধর্মীয় বিষয় নয়, বরং একটি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা উল্লেখ করে রাজ্যের প্রতিটি নাগরিককে এই প্রক্রিয়ায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।