কেওড়াতলায় চোখের জলে অনীক দত্তকে শেষ বিদায়, বাবার মুখাগ্নি করলেন মেয়ে ঐশী

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। নন্দন এবং এনটি-১ স্টুডিয়োয় গুণমুগ্ধ ও সহকর্মীদের শেষ শ্রদ্ধা গ্রহণের পর কেওড়াতলা মহাশ্মশানে সম্পন্ন হলো বিশিষ্ট পরিচালক অনীক দত্তের শেষকৃত্য। দুপুর ১টা নাগাদ তাঁর শববাহী গাড়ি কেওড়াতলায় পৌঁছালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সেখানে পরিবারের সদস্য, সহকর্মী এবং ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে সমস্ত ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।
সমস্ত রীতি মেনে বাবার শেষকৃত্যের গুরুদায়িত্ব পালন করেন অনীক দত্তের মেয়ে ঐশী দত্ত। কঠিন এই যন্ত্রণাদায়ক মুহূর্তে ঐশীর পাশে থেকে তাঁকে মানসিক শক্তি জোগান অনীকের প্রাক্তন স্ত্রী সন্ধি দত্ত। শেষকৃত্যে উপস্থিত ছিলেন টলিউডের একাধিক পরিচিত মুখ, যাদের মধ্যে ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, সৌরভ দাস, লগ্নজিতা চক্রবর্তী ও সৌরসেনী মৈত্রা। শোকের এই আবহে তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, অনীক দত্ত কেবল একজন প্রতিভাবান পরিচালকই ছিলেন না, বরং টলিপাড়ার বহু মানুষের অত্যন্ত প্রিয়জন ছিলেন।
স্মৃতিবিজড়িত শেষযাত্রা ও চলচ্চিত্র জগতে প্রভাব
সকাল থেকেই শুরু হওয়া এই শেষযাত্রার প্রতিটি পথ ছিল স্মৃতিতে মোড়া। প্রথমে নন্দনে সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধাজ্ঞাপন এবং পরবর্তীতে এনটি-১ স্টুডিয়োয় সহকর্মীদের অশ্রুসজল বিদায়ের পর শববাহী গাড়িটি কেওড়াতলার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। এনটি-১ স্টুডিয়োয় উপস্থিত সকলে গানে গানে প্রিয় পরিচালককে বিদায় জানান। কেওড়াতলা মহাশ্মশানে দাঁড়িয়ে বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে অনীক দত্তের ছবি নন্দনে মুক্তি দেওয়া হবে।
অনীক দত্তের এই আকস্মিক প্রস্থান বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর মতো একজন স্পষ্টবাদী ও স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন পরিচালকের চলে যাওয়া সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে বড় শূন্যতার সৃষ্টি করল। তবে কেওড়াতলার চিতায় তাঁর পার্থিব অস্তিত্বের অবসান ঘটলেও, তাঁর নির্মিত কালজয়ী ছবি এবং চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর অনন্য অবদান দর্শকদের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবে। পরিবারের অশ্রু, সহকর্মীদের নীরবতা আর অনুরাগীদের গভীর শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই সমাপ্ত হলো এক সৃষ্টিশীল জীবনের শেষ অধ্যায়।