ডিজিটাল জনগণনার পথে বাংলা, ১ অগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী বৃহৎ প্রক্রিয়া

ডিজিটাল জনগণনার পথে বাংলা, ১ অগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী বৃহৎ প্রক্রিয়া

পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শুরু হতে চলেছে নতুন করে জনগণনা বা সেন্সাস। আগামী ১ অগস্ট থেকে রাজ্য জুড়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং তা চলবে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাংলার এই জনগণনা সম্পন্ন হতে চলেছে। বিগত ২০১১ সালের পর রাজ্যে আর কোনও সেন্সাস না হওয়ায় যে প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক খামতি তৈরি হয়েছিল, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা পূরণ হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বদলানো জনবিন্যাস ও অনুপ্রবেশ রোধে বড় পদক্ষেপ

এই দীর্ঘমেয়াদি জনগণনা প্রক্রিয়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে রাজ্যের বর্তমান জনবিন্যাসের পরিবর্তনকে দায়ী করা হয়েছে। পূর্বতন সরকারের জমানায় অনুপ্রবেশের কারণে রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চলের জনবিন্যাস ব্যাপকভাবে বদলে গিয়েছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সঠিক তথ্যের অভাব রাজ্যকে বাকি দেশের তুলনায় অনেকটা পিছিয়ে দিয়েছে। এই নতুন সেন্সাস প্রক্রিয়ার ফলে একদিকে যেমন অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা সহজ হবে, তেমনই আটকে থাকা উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির রূপায়ণ গতি পাবে। সরকারি মহলের দাবি, এই পদক্ষেপের ফলে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হওয়ার পাশাপাশি রাজ্যের প্রকৃত বাসিন্দাদের অধিকার সুরক্ষিত হবে।

প্রথমবার সেলফ এনুমারেশন ও নাগরিকদের জন্য ডিজিটাল পরিকাঠামো

আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় এই দফায় সাধারণ নাগরিকদের সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আগামী ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত সাধারণ বাসিন্দারা নিজেরাই নিজেদের তথ্য অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে নথিভুক্ত করার সুযোগ পাবেন, যা ‘সেলফ এনুমারেশন’ নামে পরিচিত। আমজনতার মনে যাতে কোনও বিভ্রান্তি বা ভীতি তৈরি না হয়, তার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে বিশেষ টোল-ফ্রি নম্বর ১৮৫৫ এবং ল্যান্ডলাইন নম্বর ০৩৩-২৩৩৫ ৯৫০৩ চালু করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট www.westbengal.census.gov.in-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ তথ্য স্বচ্ছতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।

এই সামগ্রিক প্রক্রিয়াটি নিয়ে যাতে কোনও রাজনৈতিক জটিলতা বা সামাজিক অস্থিরতা তৈরি না হয়, সেই বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের বৈধ ও স্থায়ী নাগরিকদের আশ্বস্ত করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণরূপে একটি সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। মূলত সঠিক উন্নয়ন এবং অনুপ্রবেশের সমস্যা দূর করতেই এই ডিজিটাল পথ বেছে নিয়েছে রাজ্য সরকার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *