৭০ কিমি বেগে কালবৈশাখীর তাণ্ডব, লণ্ডভণ্ড কলকাতা ও শহরতলি
/indian-express-bangla/media/post_attachments/wp-content/uploads/2019/03/WRITERS-TREE-759.jpg?w=759&resize=759,376&ssl=1)
শুক্রবার দুপুরে আচমকাই কালো মেঘে ঢেকে যায় তিলোত্তমার আকাশ। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘণ্টায় প্রায় ৭০ কিলোমিটার বেগে ধেয়ে আসে কালবৈশাখী ঝড়, সঙ্গে মুষলধারে বৃষ্টি। মাত্র কয়েক ঘণ্টার এই প্রাকৃতিক তাণ্ডবে কার্যত তছনছ হয়ে গেছে কলকাতার স্বাভাবিক জনজীবন। শহরের একাধিক রাস্তায় গাছ ভেঙে পড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। ঝড়ের জেরে সড়ক, রেল ও বিমান পরিষেবায় বড়সড় বিপর্যয় নেমে আসে, যার ফলে চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ।
পরিবহণ ব্যবস্থায় চরম বিপর্যয়
ঝড়ের দাপটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গণপরিবহণ ব্যবস্থা। শিয়ালদহ ডিভিশনের মধ্যমগ্রাম স্টেশনে ওভারহেড তার ছিঁড়ে যাওয়ায় শিয়ালদহ-বারাসাত শাখায় ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে শিয়ালদহ-ক্যানিং শাখাতেও। ফলে অফিস ফেরত ও নিত্যযাত্রীরা বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়েন। বিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়নি কলকাতা মেট্রোও। কবি সুভাষ ও শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনের মাঝে আচমকা লাইনে গাছ ভেঙে পড়ায় সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় মেট্রো চলাচল। এমনকি শহিদ ক্ষুদিরাম স্টেশনের টিনের শেডের একাংশ ঝড়ের তীব্রতায় উড়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় গাছ সরানোর কাজ শুরু হলে পরবর্তীতে পরিষেবা স্বাভাবিক হয়।
স্তব্ধ মহানগরের পথঘাট ও বিমান পরিষেবা
কালবৈশাখীর জেরে সল্টলেক, গল্ফগ্রিনসহ কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার রাস্তায় গাছ উপড়ে পড়ে দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে। সল্টলেকের ইন্দিরা ভবনের কাছে একটি চলন্ত গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়লেও অলৌকিকভাবে রক্ষা পেয়েছেন আরোহীরা, তবে গাড়িটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক ও রেলের পাশাপাশি ঝড়ের প্রভাব পড়েছে আকাশপথেও। প্রবল বৃষ্টির কারণে কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ে জলমগ্ন হয়ে পড়ায় কিছু সময়ের জন্য বিমান ওঠানামা সম্পূর্ণ স্থগিত রাখতে হয়।
ঝড়ের কারণ ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্ব সতর্কতা অনুযায়ী, দুপুরের পর থেকেই কলকাতা, হাওড়া এবং হুগলিতে এই বজ্রগর্ভ মেঘের সঞ্চার ঘটে। চৈত্র-বৈশাখের তীব্র গরমের পর বায়ুমণ্ডলে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ এবং জলীয় বাষ্পের আধিক্যের কারণেই এই শক্তিশালী কালবৈশাখী সৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়াবিদদের ধারণা। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টা বজ্রপাতের তীব্র আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রশাসন দ্রুত উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনে বাড়ির বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।