বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ থাবা, ৫০০ শিশুর মৃত্যু নিয়ে উত্তাল দেশ

বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ থাবা, ৫০০ শিশুর মৃত্যু নিয়ে উত্তাল দেশ

বাংলাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে হাম। ঘরে ঘরে ছড়িয়ে পড়েছে সংক্রমণ, আর তার জেরেই প্রাণ হারিয়েছে পাঁচ শতাধিক শিশু। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছে স্বাধীন তদন্তের অনুরোধ জানিয়েছে নবগঠিত বিএনপি সরকার। একই সঙ্গে এই বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যুর কারণ ও কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে মাঠে নেমেছে প্রশাসন, বিষয়টি গড়িয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত।

টিকার ঘাটতি ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

বাংলাদেশে গত ১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৮৬ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪২৬টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২ হাজারেরও বেশি শিশু। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের দাবি, দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকার ঘাটতি নিয়ে পূর্ববর্তী মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে অন্তত পাঁচবার চিঠি এবং বিভিন্ন বৈঠকে ১০ বার সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় পরিস্থিতি এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা এবং বর্তমান সরকারের শুরুতে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়ার কারণেই মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রাক্তন কর্তারা এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তদন্তের নির্দেশ ও জরুরি টিকাকরণ

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রুল জারি করা হয়েছে এবং সরকারের স্বাস্থ্য সচিবের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে যুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, মহামারি প্রতিরোধে জরুরি ভিত্তিতে দেশজুড়ে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ব্যাপক হারে টিকাদানের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *