মমতার কন্যাশ্রী প্রকল্পের ব্যর্থতা, বাল্যবিবাহে শীর্ষে বাংলা

মমতার কন্যাশ্রী প্রকল্পের ব্যর্থতা, বাল্যবিবাহে শীর্ষে বাংলা

কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গের নারী নিরাপত্তা ও শিক্ষার করুণ চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া প্রকাশিত ‘স্যাম্পেল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম স্ট্যাটিস্টিক্যাল রিপোর্ট ২০২৪’ অনুযায়ী, দেশের মধ্যে বাল্যবিবাহের হারে শীর্ষ সারির রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। তৃণমূল সরকারের ‘কন্যাশ্রী’ বা ‘রূপশ্রী’র মতো একাধিক প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও রাজ্যে বাল্যবিবাহ রোধ করা সম্ভব হয়নি, যা রাজ্য প্রশাসনের বড়সড় ব্যর্থতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

উদ্বেগজনক পরিসংখ্যান ও জাতীয় হারের তুলনা

রিপোর্টে দেখা গেছে, সারা দেশে বাল্যবিবাহের গড় হার যেখানে মাত্র ২.১ শতাংশ, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে এই হার উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.৩ শতাংশ। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সের মধ্যে বাংলার ৪৪.৫ শতাংশ মহিলার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া, রাজ্যে মোট বিবাহযোগ্য নারীর মাত্র ৪৯.২ শতাংশের বিয়ে ২১ বছর বা তার বেশি বয়সে হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শহরের তুলনায় রাজ্যের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বাল্যবিবাহের প্রবণতা অনেক বেশি। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের পরিস্থিতিও বেশ খারাপ, তবে দিল্লি ও কেরল বাল্যবিবাহ রোধে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে।

ব্যর্থতার কারণ ও সমাজজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রের ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’ কর্মসূচির বিকল্প হিসেবে রাজ্য সরকার কন্যাশ্রী বা সবুজসাথীর মতো প্রকল্প আনলেও তা বাল্যবিবাহের মূল কারণগুলো দূর করতে পারেনি। গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতার অভাব, অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা এবং মেয়েদের স্কুলছুটের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণেই এই সামাজিক ব্যাধি কমছে না।

এই পরিস্থিতির ফলে রাজ্যের নারী শিক্ষার হার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ অর্ধেকের বেশি মেয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকছে। এর পাশাপাশি বাল্যবিবাহের হাত ধরে স্কুল ড্রপ আউট, কম বয়সে মাতৃত্ব, মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর ঝুঁকি এবং নারীদের দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা বৃদ্ধির মতো মারাত্মক প্রভাব পড়ছে রাজ্যের সমাজজীবনে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *