হরপ্পার পশুপতি কি আসলে ইউরেশীয় দেবতা, মার্কিন ইতিহাসবিদের দাবিতে তোলপাড় দুনিয়া!

হরপ্পার পশুপতি কি আসলে ইউরেশীয় দেবতা, মার্কিন ইতিহাসবিদের দাবিতে তোলপাড় দুনিয়া!

সিন্ধু সভ্যতার ৪,৩০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক সিলমোহর নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মহলে। মহেঞ্জোদারো থেকে আবিষ্কৃত যে সিলমোহরের উপবিষ্ট মূর্তিটিকে যুগ যুগ ধরে শিব বা ‘পশুপতি’ বলে গণ্য করা হয়ে আসছে, তাকে এবার ইউরেশীয় দেবতা বলে দাবি করেছেন মার্কিন ইতিহাসবিদ অড্রে ট্রুশ। এই দাবিকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ইতিহাসবিদদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা।

বিতর্কের সূত্রপাত ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলের পোস্টকে কেন্দ্র করে। সেখানে এই সিলমোহরটিকে ভারতের ‘অবিচ্ছিন্ন সভ্যতার ধারাবাহিকতা’-র অন্যতম শক্তিশালী প্রতীক এবং উপবিষ্ট মূর্তিটিকে শিব-পশুপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এই তত্ত্বকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মার্কিন ইতিহাসবিদ দাবি করেন, ‘সিল ৪২০/ডিকে-জি’ নামের এই প্রত্নবস্তুর মূর্তিটি আসলে শিবের নয়, বরং এটি ইউরেশিয়ান পশুদের দেবতা। তাঁর মতে, এর নকশা সম্ভবত প্রাচীন দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আদি-এলামীয় শিল্পশৈলী থেকে অনুপ্রাণিত।

ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের তীব্র বিরোধিতা ও যুক্তিযুদ্ধ

অড্রে ট্রুশের এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই ভারতীয় ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা তার তীব্র বিরোধিতা শুরু করেছেন। তাঁদের মতে, সিলমোহরে মূর্তির যোগাবিষ্ট ভঙ্গি এবং শৈব প্রতীকবাদের স্পষ্ট চিহ্ন প্রমাণ করে যে এটি পশুপতিরই রূপ।

বিখ্যাত লেখক আমিশ ত্রিপাঠী মার্কিন ইতিহাসবিদের যুক্তি খণ্ডন করে জানিয়েছেন, পশুপতির সিলমোহরে হাতি, মহিষ এবং গণ্ডারের মতো প্রাণীর চিত্র রয়েছে, যা প্রাচীন এলামের (ইরান) চেনা প্রাণী নয় বরং ভারতের আদি বাসিন্দা। পাশাপাশি মূর্তিটির নিখুঁত যোগাসন ভঙ্গিও ভারতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। অন্যদিকে ইতিহাসবিদ ও অধ্যাপক লাবণ্য ভেমশানিও এই দাবি উড়িয়ে দিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, এলামীয় সিলের সঙ্গে পশুপতি বা আদি-শিব সিলের ১ শতাংশও সাদৃশ্য নেই এবং এই দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ঐতিহাসিক প্রভাবের আশঙ্কা

বিশ্লেষকদের মতে, এই বিতর্কের প্রভাব কেবল ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকবে না। সিন্ধু-সরস্বতী সভ্যতার প্রাচীনত্ব এবং এর সঙ্গে বর্তমান ভারতীয় সংস্কৃতির যোগসূত্র প্রমাণে এই সিলমোহরটি একটি বড় ভিত্তি। মার্কিন ইতিহাসবিদের এই নতুন দাবি যদি আন্তর্জাতিক মহলে গ্রহণযোগ্যতা পায়, তবে তা দক্ষিণ এশিয়ার প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস লিখন এবং ঐতিহ্যগত পরিচিতিকে বড়সড় ধাক্কা দিতে পারে। তবে ভারতীয় গবেষকদের জোরালো পাল্টা যুক্তি প্রাচীন ভারতীয় সংস্কৃতির মৌলিকত্ব রক্ষার লড়াইকে আরও শক্তিশালী করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *