চিকিৎসকের মানবিক মুখ, ক্যানসার রোগীকে জটিল অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি পৌঁছে দিলেন ডাক্তার

সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে যখন বিভিন্ন সময়ে নানা প্রশ্ন ওঠে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন ও মানবিক ঘটনার সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ। পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক ক্যানসার রোগীর জটিল অস্ত্রোপচারের পর, তাঁকে নিজের খরচে গাড়ি ভাড়া করে বাড়িতে পৌঁছে দিলেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। জঙ্গলমহলের এই ঘটনা চিকিৎসা ক্ষেত্রের এক অনন্য নজির হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
অগ্ন্যাশয়ের বিরল অস্ত্রোপচার
পুরুলিয়ার বলরামপুরের বিরামডির বাসিন্দা মিনি মান্ডি নামের এক নারী অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। রোগীর শরীরে রক্তের অভাব ও জন্ডিসের মতো একাধিক জটিলতা থাকায় প্রথমে তাঁকে তিন ইউনিট রক্ত দিয়ে শারীরিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা হয়। এরপর গঠিত মেডিক্যাল টিমের তত্ত্বাবধানে গত ১৩ মে তাঁর শরীরে প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে অত্যন্ত জটিল ‘হুইপলস অপারেশন’ চালানো হয়। এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ক্যানসারাক্রান্ত অংশসহ অগ্ন্যাশয়ের ৫০ শতাংশ, সম্পূর্ণ ডিওডেনাম, পিত্তথলি ও পিত্তনালী বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে রোগী যাতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন, সেজন্য বাকি অঙ্গগুলি পুনরায় নিখুঁতভাবে জুড়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ দেড় মাস হাসপাতালে রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর রোগী এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
চিকিৎসকের ব্যক্তিগত লড়াই ও মানবিক বার্তা
এই সফল অস্ত্রোপচারের নেপথ্যে ছিলেন হাসপাতালের ক্যানসার বিভাগের নোডাল অফিসার তথা জেনারেল সার্জারি চিকিৎসক পবন মণ্ডল। সুস্থ হওয়ার পর রোগীকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে তাঁর বাড়িতে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তিনি নিজেই গাড়ি ভাড়ার ব্যবস্থা করেন। চিকিৎসকের এই মানবিক উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন অতীত। ছাত্রাবস্থায় নিজের বাবাকে ক্যানসারে হারানোর পর থেকেই তিনি এই জটিল রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সংকল্প নিয়েছিলেন।
চিকিৎসকের এই উদ্যোগ এবং হাসপাতালের উন্নত পরিষেবা প্রত্যন্ত এলাকার সাধারণ মানুষের মনে সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি ভরসা অনেকাংশে বাড়িয়ে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই জটিল অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী মানবিক পদক্ষেপের যৌথ সাফল্যে হাসপাতালের সুপারসহ সমগ্র চিকিৎসা টিম অত্যন্ত গর্বিত।