কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড কলকাতা বিমানবন্দর, অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ উড়ান পরিষেবা

শুক্রবার দুপুরের পর হঠাৎ আবহাওয়ার চরম পরিবর্তনে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ল কলকাতা বিমানবন্দর। প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে রানওয়ে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সমস্ত বিমান পরিষেবা। বিমানবন্দর সূত্রে খবর, দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে এই মুহূর্তে কোনো বিমান ওঠানামা করতে পারছে না। আচমকা এই বিভ্রাটে চরম ভোগান্তি ও উদ্বেগের মুখে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উড়ান চলাচল ফের কখন শুরু হবে, তা এখনও নিশ্চিত করে জানানো যায়নি।
দুর্যোগের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি
গত কয়েকদিন ধরে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে চলা তীব্র দহনজ্বালার পর এদিন সকালের আকাশ পরিষ্কারই ছিল। তবে দুপুর গড়াতেই আকাশ কালো করে ধেয়ে আসে কালবৈশাখী ঝড়। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, কলকাতায় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার। এই ঝড় ও ভারী বৃষ্টির জোড়া ফলাতেই কলকাতা বিমানবন্দরের এটিসি বা এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল পরিষেবা ব্যাহত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থেই বিমান ওঠানামা সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
রাজ্যজুড়ে সতর্কতা ও সম্ভাব্য প্রভাব
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুধু কলকাতা নয়, এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় থাকবে গোটা রাজ্যেই। দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি ভারী বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা ও দুই মেদিনীপুরে প্রবল বজ্রপাতের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুরেও ঝড়-বৃষ্টির দাপট চলবে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে বিমান পরিষেবার পাশাপাশি সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে টানা দাবদাহের পর এই বৃষ্টিতে তাপমাত্রার পারদ একধাক্কায় অনেকটাই কমেছে, যা সাধারণ মানুষকে তীব্র গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি দিয়েছে।